৯০ হাজার ডেভেলপারের কাছে থেকে জেনে নিন টেক জগতের বর্তমান অবস্থা

৯০ হাজার ডেভেলপারের কাছে থেকে জেনে নিন টেক জগতের বর্তমান অবস্থা

স্ট্যাকওভারফ্লো ২০২৩ সার্ভের সারাংশ

গত মাসে স্ট্যাকওভারফ্লো সারা বিশ্বের ১৮৫ দেশের প্রায় ৯০ হাজার ডেভেলপারের কাছ থেকে একটা সার্ভে নেয়, বাংলাদেশ থেকে এই সার্ভেতে ৪৯০ জন ডেভেলপার অংশ নেয়, যেখানে বিভিন্ন টুলস, টেকনোলোজি, স্যালারি সহ অনেক বিষয়ে আলোচনা করা হয়।

এই বছরে এই সার্ভের মূল টার্গেট ছিল এআই আর মেশিন লার্নিং নিয়ে, ডেভেলপাররা এআই নিয়ে কি চিন্তা করে ও কিভাবে সেটা ব্যবহার করে সেটা নিয়ে গবেষণা হয়। একই সাথে তারা কিভাবে তাদের প্রোডাক্টে এআই এর ব্যবহার বাড়াতে পারে সেদিকেও নজর দেয়া হয়। তাদের এআই নিয়ে গবেষনা দেখতে পারবেন স্ট্যাকওভারফ্লো ল্যাবস এ, যেখানে তারা সেলফ হিলিং কোড, টাইটেল জেনারেটর, চ্যাট ডিসাইফার সহ অনেকগুলো ব্যাপারে বিস্তর গবেষণা করতেসে।

একেকটা সার্ভের জন্য গড়ে ১৮ মিনিটের মত সময় লেগেছিলো। একই প্রশ্নে মাঝে মাঝেই মাল্টিপল চয়েজ ছিলো, আর অর্ডারগুলো এলোমেলো করা হয়েছিলো। কিছু ক্ষেত্রে কোন কোন প্রশ্ন আগের প্রশ্নের উত্তরের উপর নির্ভর করেই করা হয়েছে।

📊 সার্ভের হাইলাইটস

পুরো সার্ভেটা আপনারা দেখতে পাবেন স্ট্যাকওভারফ্লোর সার্ভে ওয়েবসাইট থেকে। তবে আপনাদের সুবিধার্থে আমি কিছু অংশ তুলে ধরতেসি যার মধ্যে ডেভেলপার প্রফাইল, টেকনোলোজি, স্যালারি ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।

  • 📚ডেভেলপার প্রফাইল

    • ‍অনলাইনে কোডিং শেখার প্রবণতা প্রায় ১০% বেড়েছে। গত বছর সার্ভেতে অনলাইন থেকে শেখার প্রবণতা ছিল ৭০%, এ বছর সেটা ৮০% হয়েছে। যাদের বয়স ১৮ আর তার নিচে, তারাই মূলত বিভিন্ন অনলাইন রিসোর্স থেকে বেশি শিখতেছে। যাদের বয়স ২৫-৩৪ এর মধ্যে তারা অনলাইন কোর্স ও সার্টিফিকেট থেকে শিখলেও প্রায় ৫৫% ই শিখতেসে বিভিন্ন স্কুল, কলেজ, ভার্সিটি থেকে।
  • 💻 জনপ্রিয় টেকনোলোজি

    • এই বছরে ডকার সবার উপর ছিল। প্রায় ৫৩% ভোট পেয়ে ডকার সবার উপরের টেকনোলোজি ছিল, এবং এটা দিন দিন বাড়তেসে। তবে যারা কোডিং করা শিখতেসে, তাদের মধ্যে এনপিএম আর পিপ ব্যবহার ডকারের থেকেও বেশি ছিল।
    • এদিকে জিরা আর কনফ্লুয়েন্স সবচেয়ে জনপ্রিয় এসিক্রোনাস টুলস হলেও এবছর মার্কডাউন এর ব্যবহার উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। একই সাথে যারা কোডিং করা শিখতেসে তারা বেশি করে গিটহাব ডিসকাশন ব্যবহার করেছে মার্কডাউন ফাইলের থেকে, আর তারা বেশি বেশি নোশন আর ট্রেলো ব্যবহার করেছে প্রফেশনাল ডেভেলপারদের তুলনায়।
  • এডমায়ারড টেকনোলেজি

    • রাস্ট বরাবরের মতই জনপ্রিয় ল্যাঙ্গুয়েজ। যারা এই বছর রাস্ট ব্যবহার করেছে, তাদের মধ্যে প্রায় ৮০% মানুষ বলেছে তারা সামনের বছরেও রাস্ট ব্যবহার করতে চায়। কিন্তু যারা ম্যাটল্যাব ব্যবহার করেছে তাদের মাত্র ২০% বলেছে তারা সামনের বছর ম্যাটল্যাব ব্যবহার করতে চায়।
    • যারা ফনিক্স ব্যবহার করেছে তাদের মধ্যে ফনিক্স এর প্রতি টান বেড়েছে এবং তারা পরেও এই ফ্রেমওয়ার্ক ব্যবহার করতে চায়, কিন্তু যারা রিএক্ট, নোডজেএস আর নেক্সট ব্যবহার করেছে তাদের মধ্যে এই টান কম ছিল।
    • যারা রাস্টের কার্গো ব্যবহার করেছে, তারা সামনের বছরগুলোতেও কার্গো ব্যবহার করতে চায়। তবে এই চাওয়া পাওয়ার মধ্যে ডকারের চাওয়া পাওয়া সবচেয়ে উপরে ছিল। বারবারই ঘুরে ফিরে সবাই ডকারের কথা শিকার করেছে।
  • 💼 টেকনোলেজির অভিজ্ঞতা

    • ৪২% চ্যাটজিপিটি ইউজার সামনের বছর গুগল বার্ড আর বিং এআই ব্যবহার করতে চায়, তবে প্রায় ৭৯% ব্যবহারকারী এখনো চ্যাটজিপিটির সাথে লেগে থাকতে চায় এটার ইউজার এক্সপেরিয়েন্স ও মজার জন্য।
  • 💰 স্যালারির ব্যাপার

    • এরল্যাঙ্গের স্যালারি এবারও সবার উপরে ছিল। বরং গত বছরের তুলনায় স্যালারি আরো ২% বেড়েছে। অন্যদিকে ক্লজুর এর স্যালারি প্রায় ৯% কমেছে। এদিকে কম এক্সপেরিয়েন্স থাকার পরেও জিগ নামের ল্যাঙ্গুয়েজটা দ্বিতীয় স্থান দখল করেছে। ডার্ট আর এসএএস এর স্যালারি গত বছরের তুলনায় সবচেয়ে বেড়েছে প্রায় ২০% হারে। জাভাস্ক্রিপ্ট, রাস্ট, টাইপস্ক্রিপ্ট ছিল লিস্টের মাঝামাঝি অংশে, আর লিস্টের একদম নিচে পড়ে ছিল ডার্ট আর পিএইচপি।
  • 🧠 এআই নিয়ে আগ্রহ

    • যারা কোডিং করা শিখতেসে তাদের প্রায় ৮২% মানুষই এআই টুলসের দিকে নির্ভরশীল হচ্ছে, আর যারা প্রফেশনাল তাদের মধ্যে সংখ্যাটা ৭০% এর মত।
  • 👨‍💼 কর্মক্ষেত্রের ব্যাপার

    • গত বছরের তুলনায় এ বছর ফ্রিল্যান্সার, সেলফ এমপ্লয়েড মানুষের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। আর ফুল টাইম স্টুডেন্টের সংখ্যা একই হারে কমেছে। ইনফ্লেশনের কারণে কিছু শেখার খরচ বাড়লেও নিজের শেখার জন্য মানুষ গত বছরের মত মোটামুটি একই পরিমাণ খরচ করতেসে।
    • বড় বড় অর্গানাইজেশনগুলো এখনো হাইব্রিড অফিসের দিকে নজর দিচ্ছে। ছোট অর্গানাইজেশন আর স্ট্যার্টআপগুলোতে অফিসের কাজ বেড়েছে, হাইব্রিডের সংখ্যা কমেছে। কিন্তু বাড়ুক বা কমুক, ছোট বড় সব রকম অর্গানাইজেশনের প্রায় তিন ভাগের এক ভাগ অর্গানাইজেশন পুরোপুরিই রিমোট।
  • ⏱️ প্রডাক্টিভিটি

    • প্রফেশনাল ডেভেলপারদের মধ্যে ৬৩% এর মত মানুষ কোন একটা সমাধানের মোটামুটি ৩০ মিনিটের মত সার্চ করেছে। যারা মানুষকে ম্যানেজ করে তারা মাত্র ৩৬% এর মত সমাধানের পিছনে সময় দিয়েছে, অপরদিকে যারা ইন্ডিভিজুয়াল কন্ট্রাক্টর তাদের জন্য সংখ্যাটা প্রায় ৪২% ছিল। ম্যানেজাররা সমস্যা নিজে সমাধানের জন্য বরাবরই কম সময় দিয়ে আসছে।

📚ডেভেলপার প্রফাইল

এডুকেশন

  • মোটামুটি ৮৪% ডেভেলপারের সেকেন্ডারি আর হায়ার সেকেন্ডারি লেভেলের পড়াশোনা আছে, কিছু কলেজ ও ভার্সিটি সহ। মোটামুটি ৪৭% এর মত প্রফেশনাল ডেভেলপারের ব্যাচেলর ডিগ্রী আছে, এবং ২৬% এর মাস্টার্স ডিগ্রী আছে। ব্যাচেলর ডিগ্রী বলতে টেকনোলোজির ডিগ্রী সেটা নয়, বিএ, বিএস, বিএসই সহ সবই আছে এখানে।
  • আর যারা কোডিং করা শিখতেসে, তাদের অর্ধেকের বেশির বয়স যেহেতু ১৮-২৪ এর মধ্যে, তাদের ব্যাচেলর ডিগ্রী না থাকাই স্বাভাবিক, যেহেতু তারা স্কুল ও কলেজে পড়াশোনা করে। (এখানে বলে নেয়া উচিৎ, বাংলাদেশের স্কুল ও কলেজ লেভেল বাইরের স্কুল ও কলেজ লেভেলের মত না। ওখানে স্কুল লেভেলেও অনেক কিছু শেখানো হয়, টার্মগুলোও ভিন্ন।)
  • প্রফেশনাল ডেভেলপারদের প্রায় ১২% এর মত কলেজ বা ভার্সিটিতে পড়লেও এখনো কোন ডিগ্রী নেয়নি, আর যারা কোডিং শিখতেসে তাদের মধ্যে এই সংখ্যাটা প্রায় ২১% এর বেশি, তাদের মধ্যে প্রাইমারি আর এলিমেন্টারি স্কুলের গন্ডি পার করেছে ৭.৫৪%, পিএইচডি করেছে প্রায় ১.১৭% এর মত।

কোডিং শেখা

  • অনলাইনে কোডিং শেখার প্রবণতা প্রায় ১০% বেড়েছে। গত বছর সার্ভেতে অনলাইন থেকে শেখার প্রবণতা ছিল ৭০%, এ বছর সেটা ৮০% হয়েছে। যাদের বয়স ১৮ আর তার নিচে, তারাই মূলত বিভিন্ন অনলাইন রিসোর্স থেকে বেশি শিখতেছে। যাদের বয়স ২৫-৩৪ এর মধ্যে তারা অনলাইন কোর্স ও সার্টিফিকেট থেকে শিখলেও প্রায় ৫৫% ই শিখতেসে বিভিন্ন স্কুল, কলেজ, ভার্সিটি থেকে।
  • এখানে ভিডিও, ব্লগ, ফোরামের চাহিদা প্রায় ৮০%, এরপর ৫১% চাহিদা বইয়ের দিকে, ৫০% এর মত স্কুল, কলেজের দিকে, ৪৯% এর মত অনলাইন কোর্স আর সার্টিফিকেটের দিকে। আর জব করতে গিয়ে প্রায় ৪৬% এর মত ডেভেলপার ট্রেইনিং পেয়েছেন। কলিগদের কাছ থেকে শিখেছেন ২৩% এর মত, বন্ধু বান্ধবদের কাছ থেকে ১১% এর মত। কোডিং বুটক্যাম্প আর হ্যাকাথনের দিকে এটা ছিল ৯% আর ৮% এর মত।
  • এখানে উল্লেখযোগ্য একটা ব্যাপার হলো যাদের বয়স ৩৫ এর যত বেশি হয়েছে, তার বই পড়ার প্রবনতা তত বেশি ছিল। আর যত কম বয়স হয়েছে তার অনলাইন রিসোর্সের প্রতি ঝোঁক তত বেশি ছিল। এ থেকে বোঝা যায় নতুন জেনারেশন বইয়ের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলতেসে।
  • এত কিছুর পরেও টেকনিকাল ডকুমেন্টেশন, স্ট্যাক অভারফ্লো, ব্লগ আর বিভিন্ন ভিডিও থেকে সবচেয়ে বেশি মানুষ শিখেছে। যা থেকে বোঝা যায় যে খুব ভালো ডকুমেন্টেশন লিখা ও পড়া একটা গুরুত্ব বহন করে। এদিকে বিভিন্ন কমিউনিটি ও ব্লগে একটিভভাবে লেখালেখির মাধ্যমেও মানুষ একে অপরকে শেখাতে পারতেসে। অনলাইন কোর্স, বই, ফোরাম, কোডিং সেশন, টিউটোরিয়াল, চ্যালেন্জ, পডকাস্ট থেকেও মানুষ শেখা শুরু করেছে। একটা ছোট অংশ গেইমের মাধ্যমেও প্রোগ্রামিং শেখার পিছনে সময় দিয়েছে।
  • সবচেয়ে জনপ্রিয় অনলাইন কোর্স প্লাটফর্ম হিসাবে ছিল ইউডেমি, কোর্সেরা, কোডেকাডেমি, প্লুরালসাইট, ইডিএক্স, উডাসিটি আর স্কিলসফট। তার মধ্যে ইউডেমির জনপ্রিয়তা সবার উপরে প্রায় ৬৫% ভোট পেয়েছে।

এক্সপেরিয়েন্স

  • এবারের সার্ভের বেশিরভাগ ডেভেলপারই তাদের ক্যারিয়ারের শুরু আর মধ্যবর্তী অংশে ছিল। ৪৮% ডেভেলপার বলেছে তারা ১০ বছরের কম সময় ধরে কোডিং করতেসে। অস্ট্রেলিয়া আর যুক্তরাজ্যের মানুষদের এক্সপেরিয়েন্স সবচেয়ে বেশি ছিল। এরপর আমেরিকা, কানাডা, নেদারল্যান্ড, জার্মানী, ফ্রান্স, ব্রাজিল, পোল্যান্ড, এবং সবার শেষে ইন্ডিয়া। তবে এখানে উল্লেখ্য এই সার্ভেতে আসলে অংশ নেয়া বেশিরভাগ দেশের মানুষই হলো ওখানকার। আর পুরো সার্ভেতে দেশের কথা উল্লেখ করেছে খুব কম সংখ্যক মানুষ।
  • এ বছর প্রায় ৭১% ডেভেলপার বলেছে তারা ১৪ বছরের কম সময় ধরে প্রফেশনালভাবে কাজ করতেসে। আর ২৪% বলেছে তাদের এক্সপেরিয়েন্স ১৫ বছরের বেশি ছিল।

ডেভেলপার রোলগুলো

  • সিনিয়র এক্সিকিউটিভদের মধ্যে কোডিং রিলেটেড কাজের অভিজ্ঞতা সবচেয়ে বেশি ছিল। এরপর ডেস্কটপ আর এন্টারপ্রাইজ এপ্লিকেশন ডেভেলপারদের মধ্যে, এরপর ছিল এডুকেটর বা মেন্টরদের, এরপর ডাটাবেইজ এডমিন, ডেভেলপার এডভোকেট, ইন্জিনিয়ারিং ম্যানেজার, প্রডাক্ট ম্যানেজার, প্রজেক্ট ম্যানেজার, রিসার্চ, ডিজাইনার, সায়েন্টিস্ট ইত্যাদি। ব্লকচেইন, টেস্টিং, মেশিন লার্নিং, ডেভঅপস এর এক্সপেরিয়েন্সও কমপক্ষে ৭ বছরের বেশি সময় ধরে আছে।
  • এবছরের ডেভেলপারের মধ্যে ফুলস্ট্যাক, ব্যাকএন্ড, ফ্রন্টএন্ড ডেভেলপারের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি ছিল। এরপর ছিল ডেস্কটপ, মোবাইল, আর ম্যানেজারের সংখ্যা। এরপর ছিল ডাটা সায়েন্টিস্ট, আইওটি নিয়ে কাজ করা মানুষ, মেশিন লার্নিং, ডেভঅপস নিয়ে কাজ করা মানুষের সংখ্যা। অতিরিক্ত হিসাবে এবছরই প্রথম বার ডেভেলপার এডভোকেট নামে একটা নতুন রোল এড করা হয় সার্ভেতে, যেখানে ২১২ জন নিজেকে ডেভেলপার এডভোকেট দাবি করেছেন। সিকিউরিটি, ব্লকচেইন, ডাটাবেইজ এডমিন, এডুকেটর এর সংখ্যা এই অংশে কম ছিল।

দেশের অবস্থা

  • বাংলাদেশ থেকে এই সার্ভেতে ৪৯০ জন ডেভেলপার অংশ নেয়। তবে সবচেয়ে বেশি ছিল আমেরিকান, এরপর জার্মানি ও ইন্ডিয়ান। প্রায় প্রতিটা দেশ থেকেই সার্ভেতে লোক অংশ নিয়েছে। এ বছর সার্ভের লিস্টে জার্মানী দ্বিতীয় স্থান দখল করে, আর অস্ট্রেলিয়া সেরা ১০ এ জায়গা দখল করেছে।

ডেমোগ্রাফিক্স

  • মোটামুটি ৪৩% প্রফেশনাল ডেভেলপারের বয়স ২৫ থেকে ৩৪ বছরের মধ্যে। আর প্রায় অর্থেকের বেশি ডেভেলপার কোডিং করা শিখতেসে যাদের বয়স ১৮-২৪ বছরের মধ্যে। এখানে উল্লেখযোগ্য একটা ব্যাপার হলো ৩৫ বছরের বেশি বয়সে, এমনকি ৬৫ বছরের বেশি বয়সেও অনেকে কোডিং শিখতেসেন, ও প্রফেশনাল ডেভেলপার হিসাবে কাজ করতেসেন। একই সাথে ১৮ বছরের কম বয়সে প্রফেশনাল ডেভেলপার হিসাবে দাবি করেছেন ৪২২ জন ডেভেলপার।

💻 টেকনোলোজি

সার্ভেতে প্রতি বছরই বিভিন্ন টেকনোলোজি নিয়ে গবেষনা করা হয়। এই বছরে এআই এর দিকে বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়। এছাড়া ডেভেলপাররা কোন টেকনোলোজি ব্যবহার করতেসে, কোনটা ব্যবহার করতে চায়, এই সম্পর্ককে তারা নাম দিয়েছে এডমায়ার্ড আর ডিজায়ার্ড সেকশন হিসাবে।

জনপ্রিয় টেকনোলোজি

প্রোগ্রামিং, স্ক্রিপ্টিং আর মার্কআপ ল্যাঙ্গুয়েজ

  • ২০২৩ সালেও জাভাস্ক্রিপ্ট দীর্ঘ ১১ বছর ধরে সবচেয়ে ব্যবহার হওয়া ল্যাঙ্গুয়েজ হিসাবে জায়গা দখল করেছে। এরপর ছিলো এইচটিএমএল আর সিএসএস। পাইথন এবার ওভারঅল এসকিউএলকে পিছনে ফেলে তৃতীয় স্থানে এসেছে। যদিও প্রফেশনাল ডেভেলপাররা এখনো এসকিউএলকে তৃতীয় স্থানে রেখেছেন।
  • এবার ব্যাশ, সি, রুবি, পার্ল, এরল্যাং কিছু উপরে এসেছে। গত বছরের তুলনায় অনেক দ্রুত উপরে উঠেছে লুয়া নামক ল্যাঙ্গুয়েজ।
  • প্রফেশনালদের জন্য এখনো সবার উপরের ল্যাঙ্গুয়েজ হলো জাভাস্ক্রিপ্ট, এইচটিএমএল, সিএসএস, আর এসকিউএল। তবে যারা কোডিং করা শিখতেসে তারা পাইথন বেশি ব্যবহার করতেসে। এদিকে যারা কোডিং করা শিখতেসে তারা প্রফেশনাল ডেভেলপারদের তুলনায় জাভা, সি++ আর সি বেশি ব্যবহার করেছে।
  • লিস্টে জাভাস্ক্রিপ্টে ছিল ৬৩% ভোট, পিএইচপিতে ১৮% ভোট, গো আর রাস্টে ১৩% ভোট। প্রফেশনাল ডেভেলপারদের মধ্যে টাইপস্ক্রিপ্টের ব্যবহার ছিল ৪৩% কিন্তু যারা কোডিং শিখতেসে তাদের মধ্যে এই সংখ্যা মাত্র ২১%। এখান থেকে বোঝা যাচ্ছে প্রফেশনাল ডেভেলপার আর কোডিং শিখতেসে এমন ডেভেলপারদের মধ্যে টেকনোলোজির একটা বিশাল গ্যাপ রয়েছে।

ডাটাবেইজ

  • এবছর প্রফেশনাল ডেভেলপারদের চয়েসে পোস্টগ্রেস গত বছরের মাইএসকিউএলকে পিছনে ফেলে উপরে উঠে এসেছে। প্রায় ৪৯% প্রফেশনাল ডেভেলপার পোস্টগ্রেস ব্যবহার করেছে। এরপর মাইএসকিউএল, এসকিলাইট, এসকিউএল সার্ভার, মঙ্গোডিবি, রেডিস, মারিয়াডিবি, ইলাস্টিক সার্চ, ডাইনামোডিবি, ওরাকল।
  • যারা কোডিং করা শিখতেসে তাদের প্রাথমিক চয়েজে ছিল মাইএসকিএল আর এরপর মঙ্গোডিবি। এরপর এসকিউলাইট আর পোস্টগ্রেস।

ক্লাউড প্লাটফর্ম

  • সব বছরের মত বছরেও আমাজন ওয়েব সার্ভিস বা AWS এর ব্যবহারকারী সবচেয়ে বেশি ছিল। এরপর মাইক্রোসফটের আজুরে, আর এরপর গুগল ক্লাউড আর ফায়ারবেইজ। গত বছর যারা কোডিং করা শিখতেসিলো তারা হেরুকো বেশি ব্যবহার করলেও এ বছর প্রাইসিং এর কারণে সেই সংখ্যা একদম কমে গিয়েছে। যারা কোডিং শিখতেসে তাদের টপ ক্লাউড প্লাটফর্মের লিস্টে আছে AWS, Google Cloud, Firebase, Netlify, Heroku, Vercel, Cloudflare ইত্যাদি।

ওয়েব ফ্রেমওয়ার্ক আর টেকনোলোজি

  • নোডজেএস আর রিএক্টজেএস সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করা টেকনোলোজি হিসাবে ছিল। এরপর জেকুয়েরি আর এক্সপ্রেস এর ব্যবহারকারী। তারপর এঙ্গুলার আর নেক্সটজেএস। পিএইচপির জনপ্রিয় দুইটা টেকনোলোজি, ওয়ার্ডপ্রেসের ব্যবহারকারী ছিল ১৩% আর লারাভেলের ব্যবহারকারী ৭.৫৮% এর মত। তবে যারা কোডিং করা শিখতেসে তাদের মধ্যে এই সংখ্যাটা আরো কম।

অন্যান্য ফ্রেমওয়ার্ক আর লাইব্রেরী

  • এবছর ডট নেট কে ভেঙ্গে দুইটা ভাগ করা হয়, তারপরেও এর ব্যবহারকারী ছিল প্রায় ২৫% আর ১৭% এর মত। এদিকে মেশিন লার্নিং, ডাটা সায়েন্স, এআই স্পেসিফিক টুলসগুলোর জনপ্রিয়তা গত বছরের তুলনায় অনেক বেড়েছে। নামপি, পানডাস, টেনসরফ্লো, টর্চ, ওপেনসিভি, ইত্যাদি লিস্টে উল্লেখযোগ্য স্থান দখল করেছে।

অন্যান্য টুলস

  • প্রায় ৫৬% প্রফেশনাল ডেভেলপার ডকার ব্যবহার করেছেন, এরপর ৫১% ভোট ছিল এনপিআম এর ২৬% ছিল পিপ এর পক্ষে। লিস্টে ইয়ার্ন, ব্রিউ, কুবারনেটেস, মেইক, গ্রাডেল, ভাইট ইত্যাদিও ছিল।
  • অন্যদিকে যারা কোডিং করা শিখতেসে তাদের জন্য সবচেয়ে জনপ্রিয়তার লিস্টে ছিল এনপিএমন, পিপ, ডকার, জিসিসি, ভাইট ইত্যাদি। শিক্ষার্থীদের লিস্টে এছাড়াও কার্গো, মেইক ও ইয়ার্ন ছিল।

আইডিই

  • গত বছরের তুলনায় জনপ্রিয়তা আরো বাড়িয়ে ভিএসকোড এখনো সব রকম ডেভেলপারের পছন্দের শীর্ষে অবস্থান করে। এরপর ভিজুয়াল স্টুডিও, আইডিয়া, নোটপ্যাড++, ভিম, এন্ড্রয়েন্ড স্টুডিও জায়গা দখল করে।

এসিংক্রোনাস টুলস

  • এদিকে জিরা আর কনফ্লুয়েন্স সবচেয়ে জনপ্রিয় এসিক্রোনাস টুলস হলেও এবছর মার্কডাউন এর ব্যবহার উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। একই সাথে যারা কোডিং করা শিখতেসে তারা বেশি করে গিটহাব ডিসকাশন ব্যবহার করেছে মার্কডাউন ফাইলের থেকে, আর তারা বেশি বেশি নোশন আর ট্রেলো ব্যবহার করেছে প্রফেশনাল ডেভেলপারদের তুলনায়।

সিংক্রোনাস টুলস

  • সবার জন্য এবছর সবচেয়ে জনপ্রিয় সিংক্রোনাস টুলসের তালিকায় ছিল মাইক্রোসফটের টিমস, স্ল্যাক আর জুম। এরপর ডিসকর্ড, গুগল মিট আর হোয়াটসএপ। গত বছর জুমের চাহিদা বেশি থাকলেও এবছর প্রায় ১০% কম পয়েন্ট পেয়েছে। অন্যদিকে যারা কোডিং করা শিখতেসে, তাদের পছন্দের তালিকা দখল করেছে ডিসকর্ড, হোয়াটসএপ আর জুম।

অপারেটিং সিস্টেম

  • উইন্ডোজ এই বছরেও সবচেয়ে জনপ্রিয় সিস্টেম। পার্সোনাল কাজে প্রায় ৫৯% মানুষ উইন্ডোজ ব্যবহার করেছে আর প্রফেশনাল কাজে প্রায় ৪৬% এর মত। এরপর ম্যাকের ব্যবহারকারীর লিস্টে ৩২% মানুষ পার্সোনাল কাজে ব্যবহার করেছে আর প্রফেশনাল কাজে ৩৩%। লিনাক্সের বিভিন্ন সিস্টেম, উবুন্টু, ডেবিয়ান, আর্চ, এন্ড্রয়েড আর উইন্ডোজ সাবসিস্টেম ফর লিনাক্স বা ডাবলিউএসএল এর ব্যবহারকারীও তুলনামূলক হারে বেড়েছে।

এআই সার্চ টুলস

  • এবছর নতুন একটা সেকশন এড করা হয়েছে। যেখানে টপ এআই সার্চ টুলস হিসাবে চ্যাটজিপিটি ৮৩% ভোট পেয়েছে। এরপর বিং আর ওলফার্মআলফা, গুগল বার্ড ইত্যাদি ছিল। যারা কোডিং করা শিখতেসে তাদের মধ্যে চ্যাটজিপিটি আর বিং এআই এর ব্যবহার একটু বেশি ছিল।

এআই ডেভেলপার টুলস

  • ডেভেলপারদের পছন্দের টুলস হিসাবে ছিল গিটহাব কোপাইলট, প্রায় ৫৫% ভোটার এটাকে ভোট দিয়েছে। এরপর ছিল ট্যাবনাইন। তবে যারা কোডিং করা শিখতেসে তারা প্রফেশনালদের তুলনায় একটু বেশি ট্যাবনাইন ব্যবহার করেছে, যেটা মূলত এটার দামের কারণে হতে পারে।

পছন্দ আর অপছন্দের টেকনোলেজি

কোন টেকনোলোজিগুলো আগের বছর জনপ্রিয় ছিল সেগুলোর সাথে এখন ডেভেলপাররা ব্যবহার করতেসে আর সামনে ব্যবহার করার ইচ্ছা আছে, এমন একটা লিস্টও তারা তৈরি করেছেন যেখানে প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ, টুলস, লাইব্রেরি ইত্যাদি আলোচনা করা হয়েছে। এই সেকশনটাকে তারা নাম দিয়েছেন “এডমায়ার্ড আর ডিজায়ার্ড”, বা প্রশংসিত ও আকাঙ্খিত।

তো কতটুকু হাইপ আর কতটুকু বাস্তব, সেটা বুঝানোর জন্য তারা একটা সিস্টেম করেছেন। মানুষ যেটা নতুন করে ব্যবহার করতে চায়, আর যারা পুরাতন ব্যবহারকারী আছে তারা কি একই জিনিস আবার ব্যবহার করতে চায় কিনা, করতে চাইলে এই দুই শ্রেণীর মধ্যে পার্থক্য কতটুকু, সেটাই এই সিস্টেম দিয়ে বের করবেন। যদি দেখা যায় এই দুইটার দূরত্ব বেশি, তাহলে বুঝা যাবে যত ব্যবহার বাড়ে তত এই জিনিসের হাইপ বাড়ে, আর দূরত্ব কম থাকলে বোঝা যাবে সব হাইপের উপর দিয়েই চলতেসে।

উদাহরণস্বরূপ, জাভাস্ক্রিপ্ট ২০১১ সাল থেকে স্ট্যাকওভারফ্লো এর সবচেয়ে জনপ্রিয় ল্যাঙ্গুয়েজ। এটার মধ্যে এডমায়ার্ড আর ডিজায়ার্ড এর দূরত্ব ১০% এরও কম। কিন্তু রাস্ট বিগত আট বছর ধরে আকাঙ্খিত হবার পরেও এটার দূরত্ব ৬০% এর বেশি। রাস্ট এমন একটা ল্যাঙ্গুয়েজ যেটা যত বেশি ব্যবহার করা হয়, তত বেশি এটা ব্যবহারের আকাঙ্খা তৈরি হয়। কিন্তু জাভাস্ক্রিপ্টের ক্ষেত্রে সেই আকাঙ্খা তুলনামূলকভাবে কম।

এই প্রশংসা বের করার সিস্টেম দিয়ে তারা বের করতে পারেন কোন টেকনোলোজি সবার উপরে থাকবে এবং কোন টেকনোলোজি উপরে উঠার জন্য আরো পরিশ্রম করতে হবে। আর এই নতুন সিস্টেমটা আগের বছরের “লাভড, ড্রেডেড, ওয়ান্টেড” সেকশনটাকে রিপ্লেস করবে।

প্রোগ্রামিং, স্ক্রিপ্টিং আর মার্কআপ ল্যাঙ্গুয়েজ

  • রাস্ট হলো সবচেয়ে বেশি এডমায়ার্ড ল্যাঙ্গুয়েজ। প্রায় ৮০% এর বেশি ডেভেলপার যারা রাস্ট ব্যবহার করেছেন, তারা সামনে আবারো রাস্ট নিয়ে কাজ করতে চান। কিন্তু ম্যাটল্যাবের ক্ষেত্রে ব্যাপারটা ভিন্ন, মাত্র ২০% ডেভেলপার ম্যাটল্যাব পরের বছরগুলোতে ব্যবহার করতে চান।
  • আবার ক্লজুর এমনিতে মাত্র ১% ডেভেলপার ব্যবহার করতে চান, কিন্তু যারা একবার ব্যবহার করেছেন, তাদের মধ্যে প্রায় ৬৮% ডেভেলপার আবারো ক্লজুর দিয়ে কাজ করতে চান। একই রকম গ্যাপ দেখা যায় জিগ আর এলিক্সির ল্যাঙ্গুয়েজেও।
  • যারা টাইপস্ক্রিপ্ট নিয়ে কাজ করেছেন, তাদের ৭১% মানুষ আবারো এটা নিয়েই কাজ করতে চান। জাভাস্ক্রিপ্টের ক্ষেত্রে সেটা মাত্র ৫৭%। জাভাস্ক্রিপ্ট এর তুলনায় মানুষ টাইপস্ক্রিপ্টে বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে।
  • পিএইচপির ক্ষেত্রে এই আকাঙ্খার মাত্রা মাত্র ৪১%। এদিকে পিএইচপি নিয়ে নতুন করে কাজ করার আগ্রহও দেখিয়েছেন মাত্র ৯% মানুষ।
  • অদ্ভুতভাবে রাকু নামক একটা ল্যাঙ্গুয়েজ মাত্র ০.৩৩% মানুষ নতুন করে শিখতে চান বা কাজ করতে চান। কিন্তু যারা একবার এটা নিয়ে কাজ করেছেন, তাদের প্রায় ৬৫% ডেভেলপার এটা নিয়ে আবারো সামনে কাজ করতে চান।

ডাটাবেইজ

  • পোস্টগ্রেস, রেডিস, ডাটোমিক, এই তিনটা এই বছরের সবচেয়ে এডমায়ার হওয়া ল্যাঙ্গুয়েজ, যদিও ডাটোমিকের ইউজার খুবই কম। মোটামুটি ৭১% ডেভেলপার পোস্টগ্রেস নিয়েই কাজ চালিয়ে যেতে চান।
  • মাইএসকিউএল আর মঙ্গোর ক্ষেত্রে এই এডমায়ারেশন মাত্র ৫০-৫৫% এর মধ্যে। যারা মাইএসকিউএল আর মঙ্গো ব্যবহার করেছেন, তাদের মধ্যে এই টুলস নিয়ে কাজের আগ্রহ অর্ধেকেরও বেশি কমে গিয়েছে।
  • অপরদিকে রেডিস, সুপাবেইজ, ডাকডিবি, টিআইডিবি, ডাটোমিকের এডমায়ারেশন অনেক বেশি ছিল। যারা এইসব ব্যবহার করেছেন তারা আবারো ব্যবহার করতে চেয়েছেন।
  • কিন্তু নতুন করে ব্যবহারের তালিকায় বরাবরই পোস্টগ্রেস, মাইএসকিউএল, এসকিউলাইট, মঙ্গোডিবি আর রেডিস জায়গা দখল করে নিয়েছে।

ক্লাউড প্লাটফর্ম

  • এবছর হেটজনার আর ভার্সেলের ফ্যান বেশি। ক্লাউডফ্লেয়ার, হেটজনার, ফ্লাই, ভার্সেল, ইত্যাদি প্লাটফর্ম যারা ব্যবহার করেছে, তাদের প্রায় ৬০-৭০% ডেভেলপার এগুলো আবারো ব্যবহার করতে চেয়েছেন।
  • আমাজনের ওয়েব সার্ভিসের ক্ষেত্রে নতুন করে এই সার্ভিস ব্যবহার করতে চেয়েছেন ৪৪% আর যারা ব্যব‌হার করেছেন তাদের মধ্যে আবারো এটা ব্যবহার করে যেতে চেয়েছেন ৬২% ডেভেলপারের মত।

ওয়েব ফ্রেমওয়ার্ক আর টেকনোলোজি

  • এবছর সবচেয়ে চাহিদাসম্পন্ন ফ্রেমওয়ার্ক হিসাবে জায়গা পেয়েছে ফনিক্স নামক ফ্রেমওয়ার্ক, প্রায় ৮২% ডেভেলপার যারা এখনো ফনিক্স ব্যবহার করেছেন, তারা সামনেও এটা আবারো ব্যবহার করতে চান। যদিও নতুন করে ফনিক্স এর ব্যবহার করার আকাঙ্খা মাত্র ৩% এর মত ছিল।
  • আমাদের পরিচিত রিএক্ট, নোড, নেক্সট, এঙ্গুলার ছিল লিস্টের উপরের দিকে। কিন্তু ডেনো, নেস্ট, ব্লেজর, কুইক এগুলোও সমান তালে ইউজারের শ্রদ্ধা পেয়েছে। এই হিসাবে এসভেলটে, সলিডজেএস, এএসপি ডট নেট কোর ইত্যাদিও ছিল এডমায়ারেশনের শীর্ষে।
  • অপরদিকে জেকুয়েরি, এঙ্গুলারজেএস, গ্যাটসবি, দ্রুপাল, কোডইগনিটার, ওয়ার্ডপ্রেস, ফ্লাস্ক ইত্যাদি ডেভেলপার টানতেও পারছে না, ডেভেলপার টানার পরে তাদের ধরেও রাখতে পারছে না। এইদিকে হিসাব করলে এগুলো লারাভেলেরও নিতে পড়ে যাচ্ছে।

অন্যান্য ফ্রেমওয়ার্ক আর লাইব্রেরী

  • এবছর সবচেয়ে প্রশংসার পাত্র হয়েছে রাস্ট দিয়ে তৈরি পরিচিত টুলস টাউরি, হাগিং ফেইস, ডট নেট। ডট নেট এমনিতেই এই ক্যাটাগরিতে জনপ্রিয়, অন্যদিকে টাউরি কম পরিচিত একটা ফ্রেমওয়ার্ক হয়েও মানুষের প্রশংসা কুড়িয়েছে।
  • লিস্টে উল্লেখযোগ্য স্থানে আছে নামপি, টেনসরফ্লো, পানডাস, টর্চ, ফ্লাটার, কাফকা, সুইটফটইউআাই, কেরাস ইত্যাদি।
  • সেই হিসাবে লিস্টে একদম নিচের দিকে আছে এমএফসি, ইউনো প্লাটফর্ম, করডোভা, জামারিন ইত্যাদি।

অন্যান্য টুলস

  • ডকারের ইউজার গত বছরের তুলনায় বেড়েছে। প্রায় ৪৬% ডেভেলপার ডকারে নতুন করে কাজ করতে চায়, আর যারা করেছে তাদের প্রায় ৭৫% ডেভেলপার ডকার আরো ব্যবহার করতে চায়।
  • এদিকে নতুন করে কার্গো ব্যবহার করতে চেয়েছে মাত্র ১৫% কিন্তু যারা কার্গো ব্যবহার করে, তাদের ৮৩% ডেভেলপার কার্গো ব্যবহার করে যেতে চায়।
  • পুরো লিস্টে টপ লেভেলে আছে ডকার, এনপিএম, কুবারনেটেস, পিপ, ভাইট, হোমব্রিউ। আবার এডমায়ারেশনের টপে আছে কার্গো, ভাইট, নিক্স, সি-ল্যাং।
  • একদম নিচের দিকে কিছু টেস্টিং ফ্রেমওয়ার্ক আছে যেগুলো ডেভেলপাররা নতুন করে ব্যবহার করতে চায়নি, বা ব্যবহার করলেও আর ব্যবহার করার ইন্টারেস্ট অতটা নেই।

আইডিই

  • ভিএসকোড এবছর সবচেয়ে জনপ্রিয় আইডিই। নতুন করে ৫৮% ডেভেলপার ভিম ব্যবহার করতে চায়, আর যারা এটা ব্যবহার করেছে তাদের প্রায় ৭৬% ডেভেলপার এটাই ব্যবহার করে যেতে চায়।
  • অপরদিকে একদম সব চাহিদা ভেঙ্গে এডমায়ারেশনের শীর্ষে চলে গিয়েছে নিওভিম। প্রায় ৮১% ডেভেলপার এটা ব্যবহার করে যেতে চায়, যদিও মাত্র ১২% ডেভেলপার যারা নিওভিম ব্যবহার করেন না, তারা এটা নতুন করে ব্যবহার করতে চান।
  • লিস্টে অনেকগুলো জায়গা দখল করে নিয়েছে জেটব্রেইনের অনেকগুলো পণ্য। যারা প্রায় সবগুলোই মোটামুটি ৬০% এর বেশি ইউজারের প্রশংসা ধরে রাখতে পেরেছে।
  • জুপিটার নোটবুকস, কেইট, নোভা, মাইক্রো ইত্যাদি নতুন ইউজার বেশি না টানতে পারলেও যা টানছে তার অনেকাংশই ধরে রাখতে পেরেছে।
  • এন্ড্রয়েড স্টুডিও, নেটবিনস, এটম, এক্লিপ্স, কোডব্লকস ইত্যাদি নতুন ইউজার হারাচ্ছে, ইউজার ধরেও রাখতে পারতেসে না।

এসিংক্রোনাস টুলস

  • মার্কডাউন এবার ডিজায়ার লিস্টে দ্বিতীয় ও এডমায়ার লিস্টে প্রথম। ফলাফলে এটার চাহিদা ও ভবিষ্যৎ খুবই উজ্জল বলে বোঝা যাচ্ছে। মার্কডাউনের ফাইল ও কোড প্রায় সব জায়গায় ব্যবহার করা যাচ্ছে বলে এটার জনপ্রিয়তা বাড়তেসে বলে মনে হচ্ছে।
  • জিরা, কনফ্লুয়েন্স, এদের ব্যবহারকারী বেশি হলেও এডমায়ারেশন লিস্টে এরা অর্ধেক ব্যবহারকারীই হারাচ্ছে। অন্যদিলে গিটহাব ডিস্কাশন, নোশন, লিনিয়ার, স্ট্যাকওভারফ্লো ফর টিম, উইকি ইত্যাদি মানুষের প্রশংসা কুড়িয়ে যাচ্ছে।
  • লিস্টের নিচের দিকে ব্যবহারকারী কম, নতুন করে ব্যবহার করার ইচ্ছাও কম, কিন্তু মোটামুটি প্রশংসা কুড়িয়েছে এমন কিছু টুলস যেমন লিনকর, উইমি ইত্যাদি আছে।

সিংক্রোনাস টুলস

  • মাইক্রোসফট টিমস আর জুম, দ্রুত তাদের ব্যবহারকারী হারাচ্ছে। এই মূহূর্তে তাদের প্রচুর ব্যবহারকারী থাকলেও মাত্র ৪৬%-৪৭% ব্যবহারকারী এই টুলসগুলো আবারো ব্যবহার করতে চায়।
  • কিন্তু অন্যদিকে স্ল্যাক, ডিসকর্ড, গুগল মিট, টেলিগ্রাম, সিগনাল, ম্যাট্রিক্স তাদের ৬০% এর বেশি ব্যবহারকারী ধরে রাখতে পারতেসে। স্ল্যাক আর ডিসকর্ড এর নতুন ব্যবহারকারীও বাড়ছে, তাদের প্রশংসাও প্রায় ৬৯-৭০% এর মত রয়ে যাচ্ছে।
  • স্কাইপ, সিসকো ওয়েবএক্স নতুন ইউজার টানতেও পারতেসে না, তাদের ব্যবহারকারীও ধরে রাখতে পারতেসে না।

এআই সার্চ টুলস

  • ব্যবহারকারীর দিক থেকে লিস্টের উপরে আছে চ্যাটজিপিটি, বার্ড, বিং। ৭৫% ডেভেলপার নতুন করে চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করতে চায়, আর যারা এটা অলরেডি ব্যবহার করতেসে তাদের প্রায় ৭৭% এটা আরো ব্যবহার করে যেতে চায়। এই হিসাবে চ্যাটজিপিটি সবার চাহিদার একদম শীর্ষে আছে।
  • এরপর প্রশংসা কুড়িয়েছে ওলফ্রামআলফা, আর ফিন্ড। এরপর প্রশংসার লিস্টে আছে গুগল বার্ড, বিং, পারপ্লেক্সিটি, কোরা ইত্যাদি টুলস।

এআই ডেভেলপার টুলস

  • প্রায় ৭৪% ডেভেলপার নতুন করে কোপাইলট ব্যবহার করতে চায়, আর প্রায় ৭২% ডেভেলপার এটাই ব্যবহার করে যেতে চায়।
  • পুরো লিস্টে এমনিতে নিচের দিকে থাকলেও প্রশংসার লিস্টে এরপর আছে কোডিয়াম, যদিও নতুন করে কোডিয়াম ব্যবহার করতে চায় খুব কম মানুষ, এটার এখন ব্যবহারকারীও কম, কিন্তু যারা এটা ব্যবহার করেছে তাদের প্রায় ৬৫% ডেভেলপার এখনো এটাই ব্যবহার করে যেতে যায়।

যে টেকনোলেজি নিয়ে কাজ করেছে এবং যেগুলো নিয়ে কাজ করতে চায়

ডেভেলপাররা স্বভাবতই নতুন টেকনোলোজি নিয়ে কিউরিয়াস থাকে। এই সেকশনে কে কোন টেকোনোলেজি ব্যবহার করে, সেটা দিয়ে কে কোনটায় ইন্টারেস্টেড সেটা বের করা হবে।

প্রোগ্রামিং, স্ক্রিপ্টিং আর মার্কআপ ল্যাঙ্গুয়েজ

  • জনপ্রিয় প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজগুলোই ঘুরে ফিরে এই লিস্টগুলোতে আসতেসে কারণ যারা এইসব টুলস ব্যবহার করেছে তারা সামনের বছরগুলোতেও এগুলোই ব্যবহার করে যেতে চায়। জাভাস্ক্রিপ্ট, টাইপস্ক্রিপ্ট, এইচটিএমএল, সিএসএস ইত্যাদির ব্যবহারকারীরা এগুলোকেই সামনের বছরের জন্য রেখে দিয়েছে।
  • প্রায় ১৭ হাজার ডেভেলপার যারা টাইপস্ক্রিপ্ট ব্যবহার করেছে তারা জাভাস্ক্রিপ্ট ব্যবহার করতে চায়, আবার ২৭ হাজার ডেভেলপার যারা জাভাস্ক্রিপ্ট ব্যবহার করেছে তারা টাইপস্ক্রিপ্ট ব্যবহার করতে চায়। ২৩ হাজার এইচটিএমএল নিয়ে কাজ করা ডেভেলপার টাইপস্ক্রিপ্ট ব্যবহার করতে চায়, তাদের ২৬ হাজার ডেভেলপার জাভাস্ক্রিপ্ট নিয়ে কাজ করতে চায়।
  • দেখা গেছে যারা টাইপস্ক্রিপ্ট, জাভাস্ক্রিপ্ট, পাইথন, সি, সি++ ইত্যাদি করেছে তাদের অনেকেই রাস্ট আর গো ইত্যাদি ব্যবহার করতে চায়। কিন্তু রাস্ট আর গো ব্যবহারকারীদের মধ্যে এই টানটা খুবই কম যে তারা অন্য কোন ল্যাঙ্গুয়েজ ব্যবহার করবে, তাই ম্যাট্রিক্সে সেটা দেখানোই হয়নি।
  • পাইথন, ব্যাশ, এসকিউএল সহ অন্যান্য প্রায় সকল ল্যাঙ্গুয়েজের ডেভেলপারই অন্যান্য ল্যাঙ্গুয়েজ একটু করে হলেও দেখতে চেয়েছে।

ডাটাবেইজ

  • প্রায় ১১ হাজার পোস্টগ্রেস ইউজার সামনের বছর রেডিস ব্যবহার করতে চায়, আবার ৯ হাজারের মত রেডিস ইউজার সামনের বছর পোস্টগ্রেস ব্যবহার করতে চায়। এতে বোঝা যায় সেরা ডাটাবেইজগুলোর মধ্যে কম্প্লিমেন্টারি ডাটাবেইজ হিসাবে পোস্টগেস আর রেডিস তালিকায় স্থান পাবে।
  • যারা মারিয়াডিবি ব্যবহার করেছে, তাদের অনেকেই মাইএসকিউএল আর পোস্টগ্রেসের প্রতি আগ্রহ দেখিয়েছে। যারা মাইএসকিউএল আর মঙ্গো ব্যবহার করেছে তাদের অনেকেই অন্যান্য ডাটাবেইজের প্রতি আগ্রহ দেখিয়েছে।

ক্লাউড প্লাটফর্ম

  • ১৪ হাজার বা প্রায় অর্ধেক আমাজন ডেভেলপার সামনের বছর গুগল ক্লাউড অথবা মাইক্রোসফট আজুরে ব্যবহার করতে চায়। গুগল ক্লাউড আর আজুরের ইউজাররা একই ভাবে অন্যান্য বড় ক্লাউড প্লাটফর্মগুলো ব্যবহার করে দেখতে চায়।
  • যারা ছোট প্লাটফর্ম যৈমন ক্লাউডফ্লেয়ার, নেটলিফ্লাই, লিনোড, হেরোকু, ফায়ারবেইজ, ডিজিটালওশ্যান ইত্যাদি ব্যবহার করেছে, তারা অন্যান্য প্লাটফর্মগুলোতে বেশ আগ্রহ দেখিয়েছে।
  • এদিকে যারা ম্যানেজড হোস্টিং আর ওভিএইচ ব্যবহার করেছে তারা অন্য কোনটায় তেমন কোন আগ্রহ দেখায়নি।

ওয়েব ফ্রেমওয়ার্ক আর টেকনোলোজি

  • জেকুয়েরির ডেভেলপাররা সামনের বছর জেকুয়েরির তুলনায় নোড আর রিএক্টজেএস বেশি ব্যবহার করতে চায়।
  • রিএক্ট, নোড আর নেক্সট এর ডেভেলপার পরস্পর ব্যবহার করতে চায়। রিএক্ট এর ডেভেলপার নেক্সটে আগ্রহী, নেক্সট এর ডেভেলপার রিএক্ট এ আগ্রহী, ইত্যাদি। নোড এর ডেভেলপার এক্সপ্রেস এ আগ্রহী, আবার এক্সপ্রেস এর ডেভেলপার নোড এ আগ্রহী।
  • সংখ্যাটা কম হলেও নোড ও রিএক্ট এর ডেভেলপারদের একটা অংশ এসভেল্টে আর ভিউজেএস নিয়ে আগ্রহী।
  • এংঙ্গুলার এর ডেভেলপাররা অন্যান্য ফ্রেমওয়ার্কে আগ্রহ দেখালেও অন্যান্য ফ্রেমওয়ার্কের ডেভেলপার এঙ্গুলারে অতটা আগ্রহ দেখায়নি।

অন্যান্য ফ্রেমওয়ার্ক আর লাইব্রেরী

  • লিস্টে মোটামুটি সবগুলো স্ট্যাটিসটিকস ও এনালিটিকস ফ্রেমওয়ার্ক আর লাইব্রেরীর ইউজাররা অন্যান্য লাইব্রেরীর প্রতিও প্রায় সমান আগ্রহ দেখিয়েছে।
  • ডট নেট এর ডেভেলপাররা ডট নেট রিলেটেড ফ্রেমওয়ার্ক ও লাইব্রেরীর প্রতি আগ্রহ বেশি দেখিয়েছে। ডট নেট কমিউনিটিতে ডট নেট ও আশেপাশের লাইব্রেরীগুলোর দিকেই একটু বেশি নজর থাকে।

অন্যান্য টুলস

  • যারা ডকার, এনপিএম, কুবারনেটেস ব্যবহার করেছে, তারা সামনের বছরগুলোতেও এই টুলসগুলোই ব্যবহার করতে চেয়েছে। যদিও ডকার এর ডেভেলপাররা অন্যান্য প্রায় সব টুলসের দিকেই একটু একটু করে আগ্রহ দেখিয়েছে। অন্যদিকে এনপিএম এর ডেভেলপাররা অন্যান্য জাভাস্ক্রিপ্ট রিলেটেড টুলসের দিকে বেশি আগ্রহ দেখিয়েছে। একই ভাবে ভাইটের ইউজাররা এনপিএম আর ওয়েবপ্যাকের দিকে আগ্রহ দেখিয়েছে।

আইডিই

  • অর্ধেকের বেশি ডেভেলপার যারা ভিজুয়াল স্টুডিও ব্যবহার করেছে, তারা সামনের বছর ভিএসকোড ব্যবহার করতে চায়, কিন্তু মাত্র ২০% ভিএসকোড ইউজার সামনের বছর ভিজুয়াল স্টুডিওর প্রতি আগ্রহ দেখিয়েছে।
  • যারা নোটপ্যাডপ্লাসপ্লাস, এক্সকোড, ন্যানো, এন্ড্রয়েড স্টুডিও, সাবলাইম টেক্সট, পাইচার্ম, নিওভিম ইত্যাদি ব্যাবহার করেছে তাদেরকেও ভিএসকোড নিজেদের দলে ভিড়িয়ে নিচ্ছে।
  • তবে একটা অংশ যারা ভিএসকোড ব্যবহার করতেসে, তারা জেটব্রেইনসের পণ্য, নোটপ্যাড++, আর ভিমের দিকে আগ্রহ দেখিয়েছে।

এসিংক্রোনাস টুলস

  • জিরা আর কনফ্লুয়েন্স এর মেইন কোম্পানী একটাই। তাই এদের ইউজাররাও এই প্রডাক্ট দুইটা সুইচ করে করে ব্যবহার করেছে। তবে লিস্টে টুলসগুলোর ব্যবহারকারীরা অন্য টুলসের দিকে আগ্রহ দেখিয়েছে, যেহেতু একেক রকম টুলসের কাজ একেক রকম।

সিংক্রোনাস টুলস

  • মাইক্রোসফট টিমস, স্ল্যাক, গুগল মিট, সহ সব রকম প্রডাক্টের ইউজারদের টেনে নিচ্ছে ডিসকর্ড। একই ভাবে লিস্টে স্ল্যাকের ইউজারও দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিন্তু গত বছর এটা ভিন্ন ভাবে মাইক্রোসফট টিম, স্ল্যাক আর জুম ছিল। বিশেষ করে যারা গুগল মিট আর জুম ব্যবহার করেছে, তাদের অনেকেই অন্যান্য টুলসের দিকে আগ্রহী হচ্ছে।

এআই সার্চ টুলস

  • ৪২% চ্যাটজিপিটি ইউজার সামনের বছর গুগল বার্ড আর বিং এআই ব্যবহার করতে চায়। তবে ৭৯% ইউজার সামনের বছর চ্যাটজিপিটিই ব্যবহার করে যেতে চায়।

এআই ডেভেলপার টুলস

  • ৭০% এরও বেশি ডেভেলপার যারা গিটহাব কো পাইলট ব্যবহার করেছে, তারা সামনের বছরেও গিটহাব কো পাইলট ব্যবহার করে যেতে চায়। ট্যাবনাইনের ব্যবহারকারী হবার পর এখন কোপাইলটের দিকে আগ্রহ দেখিয়েছে এমন অনেক থাকলে, কিন্তু কোপাইলট ব্যবহারকারীর খুব কম অংশই ট্যাবনাইনের দিকে আগ্রহ দেখিয়েছে।

💰 স্যালারির ব্যাপার

সবচেয়ে বেশি স্যালারি

  • এবছর সবচেয়ে বেশি স্যালারি পেয়েছে জিগ, এরল্যাং, এফসার্প, রুবি, ক্লজুর ইত্যাদি ডেভেলপার। রাস্ট, গ্রুভি, হ্যাসকেল, গো, এগুলো লিস্টের সেরা দশে না থাকলেও উপরের দিকেই আছে।
  • টাইপস্ক্রিপ্ট, জাভাস্ক্রিপ্ট, এসকিউএল, সি, জুলিয়া, সি++ ইত্যাদি লিস্টের মাঝামাঝি অবস্থান করেছে। এমনকি এইচটিএমএল, সিএসএস এর স্থানও এখানে হয়েছে।
  • সবচেয়ে কম স্যালারি পেয়ে লিস্টের একদম নিচে আছে ডার্ট, পিএইচপি আর ম্যাটল্যাব। যদিও গত বছরের তুলনায় এ বছর ডার্টের স্যালারি প্রায় ২০% বেড়েছে।

২০২২ আর ২০২৩ সালের স্যালারির পার্থক্য

মোটামুটি সব রকম ডেভেলপারের স্যালারি গত বছরের তুলনায় এ বছর ১০% এর মত বেড়েছে। একদম প্রফেশনাল ডেভেলপারের স্যালারি প্রায় ১১% বেড়েছে। (এগুলো ইন্টারন্যাশনাল রেন্জে করা, তাই ডলারের হিসাবটা আমাদের দেশের সাথে মেলালে হবে না।)

  • ডার্টের গত বছর স্যালারি ছিল ৪৩ হাজার ডলার, এ বছর সেটা ৫৫ হাজার ডলার।
  • কটলিনের স্যালারি ছিল ৬৯ হাজার ডলার, এ বছর সেটা ৭৮ হাজার ডলার।
  • জাভাস্ক্রিপ্ট এর স্যলারি ছিল ৬৫ হাজার ডলার, এ বছর সেটা ৭৪ হাজার ডলার।
  • রাস্ট ডেভেলপার এর স্যালারি এবছর বাড়েনি। মোটামুটি ৮৭ হাজারেই আটকে আছে।
  • ক্লজুর ডেভেলপার এর স্যালারি ১০৬ থেকে কমে ৯৬ এ নেমে এসেছে।
  • পিএইচপি ডেভেলপারের বেতন ছিল ৫০ হাজার, এখন হয়েছে সেটা ৫৯ হাজার এর মত।

AI

এবারের স্ট্যাকওভারফ্লোতে AI নামে নতুন একটা সেকশন আনা হয়েছে। এই সেকশনে স্ট্যাকওভারফ্লো ল্যাবস থেকে নেয়া ডাটাগুলোর উপর আলোচনা করা হয়েছে। কেন এই বছর এআই নিয়ে এত হাইপ, কেনই বা এত পপুলারিটি পেয়েছে, এআই কি আসলেই মানুষের জীবনে কোন কিছু করছে নাকি শুধুই হাইপ?

  • যারা এই সার্ভেতে অংশ নিয়েছেন, তাদের প্রায় ৭০% এর মত বলেছেন তারা এআই টুলস তাদের ডেভেলপমেন্ট প্রসেসে ব্যবহার করতে চান। যারা কোডিং করা শিখতেসেন তাদের জন্য এই সংখ্যাটা আরো বেশি।
  • ৭৭% এর মত ডেভেলপার বলেছেন তারা এআই টুলসগুলোকে ভালো দৃষ্টিতে দেখতেসেন। প্রফেশনাল ডেভেলপার আর লার্নার দুই দলই মোটামুটি এই বিষয়ে একমত।
  • ডেভেলপাররা মনে করেন, তাদের কাজের প্রডাকটিভিটি বাড়ানোই এআই এর সবচেয়ে ভালো দিক। যেকোন কিছু শেখার সময় কমানো, কাজের দক্ষতা বাড়ানো, কোডিং এর একিউরেসি বাড়ানো আর কোলাবোরেশন বাড়ানো এরপর লিস্টে আছে।
  • মোটামুটি ৪২% ডেভেলপার এআই টুলসগুলোর কাছ থেকে পাওয়া উত্তরকে বিশ্বাস করে। ৩১% এর মত ডেভেলপার এআই টুলসের উত্তর নিয়ে তেমন কোন মতামত নেই। আর মোটামুটি ২১% এর মত মানুষ এআই থেকে পাওয়া উত্তর কিছুটা হলেও অবিশ্বাস করে।
  • যারা এআই টুলস ব্যবহার করতেসেন, তাদের বেশিরভাগই কোডিং করাকেই এআই এর ভালো ব্যবহার হিসাবে বলেছেন। যারা এআই ব্যবহার করার জন্য ইন্টারেস্টেড তারা ডিবাগ করা, ডকুমেন্ট করা, কোড বুঝা ও টেস্ট করা, প্রজেক্ট প্ল্যানিং করা, ডিপ্লয় আর মনিটরিং করা ইত্যাদি কাজে ব্যবহার করতে চান। আর যারা এআই টুলস ব্যবহার করতে অতটা ইন্টারেস্টেড না, তারা প্রজেক্ট প্ল্যানিং, টিম কোলাবোরেশন ইত্যাদি ব্যাপারে এআইকে দেখতে চান।
  • বিগিনার হউক বা প্রফেশনাল, মোটামুটি সবাই বিশ্বাস করে যে তাদের ডেভেলপমেন্ট সিস্টেম আগামী এক বছরেই একটু হলেও পরিবর্তন হয়ে যাবে এআই আসার কারণে।
  • প্রায় ২০-৩০% এর মত ডেভেলপার ভালো করেই বিশ্বাস করেন এআই এর কারণে ডেভেলপমেন্ট অনেক পরিবর্তন হয়ে যাবে। ১৯% প্রফেশনাল ডেভেলপাররা মনে করেন এআই আমাদের কোড লিখার সিস্টেমে বড় ধরনের পরিবর্তন আনবে, কিন্তু যারা কোড শিখতেসে, তাদের ক্ষেত্রে সংখ্যাটা ৩০% এর মত।

কাজকর্ম

চাকরি

  • এবছরের সার্ভেতে মোটামুটি ৬৯% ডেভেলপার ফুলটাইম চাকরিজীবি হিসাবে কাজ করছে। ১৬% এর মত ফ্রিল্যান্সার, সেল্ফ এম্প্লয়েড, ১৩% এর মত স্টুডেন্ট, ৫% এর মত পার্টটাইম। মাত্র ৪.৭৫% এর মত মানুষ কাজ খুজতেসে।
  • আমেরিকা, ইউরোপ আর এশিয়ার মধ্যে ফুলটাইম চাকরি, ফ্রিল্যান্সিং, স্টুডেন্ট এর সংখ্যায় কিছু পার্থক্য আছে। আমেরিকার ক্ষেত্রে মোটামুটি ৬৯% এর মত মানুষের ফুলটাইম চাকরি আছে, ইন্ডিয়াতে সেটা ৫৬%। একইভাবে আমেরিকায় ৯% এর মত ফুলটাইম স্টুডেন্ট, কিন্তু ইন্ডিয়ায় সেটা প্রায় ১৭% এর মত।
  • বড় বড় অর্গানাইজেশনগুলো এখনো হাইব্রিড অফিসের দিকে নজর দিচ্ছে। ছোট অর্গানাইজেশন আর স্ট্যার্টআপগুলোতে অফিসের কাজ বেড়েছে, হাইব্রিডের সংখ্যা কমেছে। কিন্তু বাড়ুক বা কমুক, ছোট বড় সব রকম অর্গানাইজেশনের প্রায় তিন ভাগের এক ভাগ অর্গানাইজেশন পুরোপুরিই রিমোট।

কোম্পানীর ব্যাপারে

  • এই প্রশ্নের উত্তর যারা দিয়েছে তাদের প্রায় ৪০% এর মত ডেভেলপার ১০০ জনের কম এম্পলয়ির কোম্পানীতে কাজ করেন। ৫% এর মত মানুষ ফ্রিল্যান্সার, আবার ১০% এর মত মানুষ মোটামুটি দশ হাজার এম্প্লয়ির মত বড় কোম্পানীতে কাজ করেন।

স্যালারি

  • সি লেভেলের এক্সিকিউটিভ, আর ম্যানেজারদের বেতন একটু উপরের দিকে আছে। জার্মানীতে ম্যানেজারদের বেতন মোটামুটি সি লেভেলের মানুষদের কাছাকাছিই আছে, আবার আমেরিকা সহ বাকি জায়গাগুলোতে সি লেভেলের তুলনায় প্রফেশনাল ডেভেলপারদের বেতন অনেকাংশে সি লেভেল থেকেও বেশি হতে পারে।
  • মোটামুটি সব দেশ বিবেচনায় একদম স্পেশালিস্টদের বেতন একটু উপরের দিকে, যেমন,
    • সি লেভেল ও ম্যানেজারদের বেতন ১ লাখ ২৪ হাজার ডলার।
    • মার্কেটিং ও সেলস প্রফেশনালের বেতন ১ লাখ ১৬ হাজার ডলার।
    • সাইট রিলায়েবিলিটি ইন্জিনিয়ারদের বেতন ১ লাখ ১৫ হাজার ডলার।
    • ডেভেলপার এক্সপেরিয়েন্সের বেতন ১ লাখ ৭ হাজার ডলার।
    • ব্লকচেইন নিয়ে কাজ করলে বেতন ১ লাখ ৩ হাজার ডলার।
    • ডেভেলপার এডভোকেট ১ লাখ ডলার।
    • সিকিউরিটি নিয়ে কাজ করলে ৯৯ হাজার ডলার।
    • ডেভঅপস নিয়ে কাজ করলে ৮০ হাজার ডলার।
    • ব্যাকএন্ড, কিউএ, ফুল স্ট্যাক, ফ্রন্টএন্ড, ডিজাইনার ইত্যাদির বেতন ৫৯ থেকে ৭৬ হাজার ডলার।
    • এভাবে একদম নিচের দিকে স্টুডেন্ট এর বেতন সবচেয়ে কম, ১৫ হাজার ডলার।
  • যার এক্সপেরিয়েন্স যত বেশি, তার বেতনও তত বেশি। সর্বোচ্চ তিনটা স্যালারির রোলের জন্য মোটামুটি ১১ বছরের মত অভিজ্ঞতা প্রয়োজন হয়েছে।
  • ১১ বছরের অভিজ্ঞতা নিয়ে সবচেয়ে বেশি স্যালারি পাচ্ছে জিগ, এরল্যাং, ক্লজুর ইত্যাদি ডেভেলপার, কিন্তু কাছাকাছি রকম অভিজ্ঞতা নিয়ে ডার্ট, আর পিএইচপির ডেভেলপাররা পাচ্ছে একদম কম, ৫৫-৬০ হাজার ডলারের এর মধ্যে। জাভাস্ক্রিপ্ট, টাইপস্ক্রিপ্ট, লুয়া, কটলিন, শেল স্ক্রিপ্টিং ইত্যাদি সহ বাকি সবার বেতন মোটামুটি মাঝামাঝি স্থানে ৭০-৮৫ হাজার ডলারের কাছাকাছি।
  • গত বছরের মতই মোটামুটি ৬৬% প্রফেশনাল ডেভেলপার তাদের অর্গানাইজেশনের কি রকম খরচ হবে, কি কেনা হবে না হবে এইসব ব্যাপারে একটু হলেও ইনফ্লুয়েন্স আছে। সিনিয়র এক্সিকিউটিভ, ম্যানেজার ইত্যাদি লেভেলের মানুষের সবচেয়ে বেশি ইনফ্লুয়েন্স আছে। মোটামুটি ৯৯% ইনফ্লুয়েন্স সি লেভেলে আর ৮৬% ইনফ্লুয়েন্স ইন্জিনিয়ারিং ম্যানেজারদের। মার্কেটিং আর কিউ বা টেস্টিং এর ইনফ্লুিয়েন্স নিচের দিকে, আর স্টুডেন্টদের ইনফ্লুয়েন্স সবচেয়ে কম।
  • মোটামুটি ৮০% ডেভেলপার নতুন কোন টেকনোলোজি ব্যবহার করা হবে তা নিয়ে নিজেরাই রিসার্চ করেন, তাদেরকে লিস্ট ধরিয়ে দিতে হয়না।
  • ফ্রি ট্রায়াল কেনাই কোন একটা টেকনোলোজি নিয়ে রিসার্চ করার সবচেয়ে বড় উপায়। এরপর ডেভেলপারদের জিজ্ঞাসা করা, এরপর কমিউনিটিতে জিজ্ঞাসা করা। এরপর আছে রেটিং চেক করা। নিচের দিকে আছে এআই টুলসকে জিজ্ঞাসা করা, ইমেইল রিসার্চ করা ইত্যাদি।
  • প্রফেশনাল ডেভেলপারদের প্রায় ৭০% ডেভলপারই কাজের বাইরে কোডিং করেন শখ হিসাবে। মাত্র ৩৭% ডেভেলপার কিছু শেখার জন্য, বা অন্য কোথাও কাজ করার জন্য, বা কোর্স করার জন্য কোডিং করেন। ২৪% ডেভেলপার অপেন সোর্স কাজ করেন। ১৯% ডেভেলপার ফ্রিল্যান্স করেন। ১৩% ডেভেলপার কাজের বাইরে নিজের বিজনেস দাড় করার চেষ্টা করেন, ১২% ডেভেলপার কাজের বাইরে কাজই করেন না। আর ১১% এর মত ডেভেলপার স্কুল আর একাডেমিক কাজ করার চেষ্টা করেন।

প্রডাক্টিভিটি

  • ৪৯% এর মত ডেভেলপার এবছরের প্রফেশনাল ডেভেলপার সিরিজে অংশ নিতে চেয়েছেন। যেটা গত বছরের তুলনায় বেশি।
  • ২৭% এর মত উত্তরদাতার মোটামুটি ৫-৯ বছরের মত প্রফেশনাল কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে। তবে যারা ম্যানেজার আছেন তাদের অভিজ্ঞতা এদিক থেকে তুলনামূলক বেশি।
  • ৮৩% রেসপনডেন্ট বলেছেন তারা তাদের নিজেদের টিমের বাইরে অন্য টিমের সাথে কাজ করেন, বা কোলাবোরেশন করেন। যেকোন কাজ করা আর সমস্যার সমাধান বের করার জন্য এই কোলাবোরেশন খুবই শক্তিশালী।
  • ৯০% এর মত ডেভেলপার অন্তত সপ্তাহে একবার নিজেদের টিমের বাইরে অন্যান্যদের সাথে কাজ করেন। বিশাল একটা অংশ বলেছেন তাদের কোম্পানীর রিসোর্সগুলো শেয়ার করা হয় না বলে তারা “নলেজ সিলো” সমস্যায় পড়েন।
  • ৭৫% ম্যানেজার জানেন কোন সিস্টেম আর রিসোর্স ব্যবহার করলে সমস্যার দ্রুত সমাধান হবে, কিন্তু মাত্র ৬৬% কন্ট্রিবিউটর এখানে পজিটিভ উত্তর দিয়েছেন। ম্যানেজাররা সাধারণত তাদের টিমের ব্লকারগুলোকে সরিয়ে দেন।
  • প্রায় অর্ধেকের বেশি ডেভেলপার বলেছেন টিম মেম্বার আর ম্যানেজারদের সাথে কাজ করলেই সমস্যার সমাধান হয়না, বরং উত্তরের জন্য বেশিরভাগ সময় অপেক্ষা করতে হয়।
  • একইভাবে প্রায় অর্ধেকের মত ডেভেলপার বলেছেন কোম্পানীর কোড বুঝতে ও সেটার উপর দ্রুত কাজ করতে তাদের সমস্যা হয়।
  • ৬৩% এর মত উত্তরদাতা বলেছেন তারা তাদের সমস্যার সমাধানের জন্য মোটামুটি ৩০ মিনিটের বেশি সময় ব্যয় করতে হয়। কিন্তু ম্যানেজারদের ক্ষেত্রে এই সময়টা একটু কম। তারা সমাধানের জন্য একটু কম সময় ব্যয় করেন।
  • ৪৯% এর মত উত্তরদাতা মোটামুটি ৩০ মিনিটের বেশি বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিয়ে থাকেন, কিন্তু ম্যানেজাররা উত্তর দেয়ার পিছনে কখনো এক ঘন্টার বেশি সময় ব্যয় করেন।

ডেভেলপার এক্সপেরিয়েন্স

  • বেশিরভাগ প্রফেশনাল ডেভেলপার বলেছেন তাদের কোম্পানীতে সিআই, সিডি, অটোমেটেড টেস্টিং, ডেভঅপস ইত্যাদি আছে।
  • এখানে প্রায় ৭২% উত্তরদাতার কোম্পানীতে কন্টিনিউয়াস ডেলিভারি টুলস, ৬০% এর কোম্পানীতে অটোমেটেড টেস্টিং, ৩৯% কোম্পানীতে মনিটরিং আর অবসারবিলিটি টুলস আছে।
  • ১৬% এর মত অর্গানাইজেশনে এআই রিলেটেড টুলস ব্যবহার করে।
  • ১১% উত্তরদাতার কোম্পানীতে এগুলোর কিছুই নেই।

এই হলো এবারের স্ট্যাকওভারফ্লো এর ডেভেলপার সার্ভের একটা ছোট অভারভিউ। এটাকে আরো কয়েকবার পরিমার্জন করে, বেশ কিছু মতামত সহ আবার রিপাবলিশ করা উচিৎ। বিশেষ করে জাভাস্ক্রিপ্ট এর তুমুল জনপ্রিয়তার পরেও টাইপস্ক্রিপ্টের দিকে ঝুঁকে যাওয়া, আবার পিএইচপির উপর মানুষের চাহিদা আস্তে আস্তে একদম কমে যাওয়া, তাদের স্যালারির বিষয় সহ বেশ কিছু জিনিস বারবার চোখের সামনে উঠে এসেছে। এছাড়া এআই টুলসগুলো আস্তে আস্তে ডেভলপমেন্ট এর জায়গা দখলও করে নিচ্ছে বেশ কয়েকটা জায়গায়।