রিমোট জবের আলটিমেট গাইড - কি, কেন, কিভাবে?

রিমোট জবের আলটিমেট গাইড - কি, কেন, কিভাবে?

Md Abu Taher's photo
Md Abu Taher
·Jul 2, 2022·

25 min read

Table of contents

রিমোট জব, এখনকার একটা বাজওয়ার্ড। ঘরে বসে দেশে রেমিটেন্স আনার একটা উপায়। অফিসে না গিয়ে অফিস করার একটা উপায়। রাস্তার জ্যাম ঠেলে অফিস যাওয়ার সময় নষ্ট না করার একটা উপায়। আরো কত রকম সুবিধা দিয়ে রিমোট জব, রিমোট অফিস, ফ্রিল্যান্সিং নাম দিয়ে আমাদের দেশে রিমোট জব প্রবেশ করছে। এই রিমোট জব নিয়েই আজকের একটু আলোচনা।

আমি সেই ছোটকাল থেকেই রিমোট জব আর ফ্রিল্যান্সিং করে এসেছি। ঢাকায় বসে সিলেটের কাজ করা, দেশে বসে বিদেশের কাজ করা। যদিও কমিউনিকেশন সেই লেভেলের বাঁজে ছিলো আমার যা ঠিক করতে অনেক সময় লেগেছে। সেই কারণে এই সময়টাতে রিমোট জব নিয়ে বেশ কিছু ভালো রিসোর্স ঘাটাঘাটি করা হয়েছে। নিজের লাইফস্টাইল আর এইসব রিসোর্স মিলিয়ে একটা ছোটখাটো মেগা পোস্ট লেখার ইচ্ছা সবসময়ই ছিলো।

অবশেষে আমার বোনকে কয়েকটা রিসোর্স ভাবানুবাদ করতে দিলাম, আরো অনেকগুলো রিসোর্স হাতে নিলাম। যার ফলাফলে এই পোস্টটি লেখার সৌভাগ্য হচ্ছে। এটাও সম্ভবত আমার বোনের করা প্রথম রিমোট টাস্ক। এটা করতে গিয়ে তার যে কি এক্সপেরিয়েন্স হয়েছে, আশা করি তাতে তার ভবিষ্যত রিমোট কাজগুলোতেও উপকার হবে।

আপনারা হয়তো জানেন না, রিমোট জব যারা করে, তারা অফিসের মানুষের তুলনায় বেশি বেতন পায়। এছাড়া রাস্তার গাড়ির ঝামেলা, অফিসের খরচ সহ অনেক কিছুই বেঁচে যায় বলে মানুষ একবার রিমোটে অভ্যস্থ হয়ে গেলে রিমোট ছাড়তে চায় না।

বিশ্বের বড় বড় কোম্পানীগুলোও এখন রিমোটে চলে যাচ্ছে। এইত Yelp নামে বিশ্বের বড় একটা কোম্পানীর ফাউন্ডার গত কদিন আগে পোস্ট দিলেন যে আমাদের কাজগুলোর ভবিষ্যত হলো রিমোট। ওই পোস্টে উনি বলেছেন যারা রিমোট কাজ করে তারা অফিসের কাজের তুলনায় বেশি খুশি থাকে। উনি চাননা অফিসে ফেরত যেতে কাউকে জোর করা হউক, হাইব্রিড হলেও না। গিটল্যাব নামে একটা বড় কোম্পানীর প্রায় ১২০০ মানুষ সবাই রিমোট কাজ করে, তাদের একটা অফিসও নেই।

করোনার আগে রিমোট নিয়ে কত রকম কথা চলতো, অনেকে ত নাক সিঁটকাতো, ঘরে বসে কি না কি করে, ছিঃ! কিন্তু করোনায় মানুষ বুঝতে পেরেছে রিমোট কাজ কি জিনিস এবং কিভাবে এটার সর্বোচ্চটা নেয়া যায়। অনেক কোম্পানী রিমোট করে ব্যবসা অনেক পজিটিভ করে ফেলেছে, খরচ অর্ধেকেরও কমিয়ে দিয়ে ওই টাকা কর্মীদের মধ্যে বিতরন করে দিয়েছে। ফলে বেতন বেড়েছে, সবার খুশি বেড়েছে, মাঝে মাঝে মিটআপ করে বাকিটুকু ক্ষোভও মিটিয়ে ফেলেছে।

রিমোট জব করে কি লাভ?

আপনাকে যদি কেউ জিজ্ঞাসা করে আপনি অফিসের কাজ শেষ করতে হলে কি করেন? তার উত্তরটা সিম্পল হবে ‘অফিসে যাব কাজ শেষ করতে।’ অফিসের কাজ শেষ করতে অফিসেই ত যাবেন। আর অফিস শুরু হয় সকাল বেলায় আর শেষ হয় বিকেলে। আর সবসময় বিকালে ফেরত আসা যায় না। অনেকেই কাজের সময় শেষ হবার পরেও অতিরিক্ত কাজ করে ওভার টাইম এর জন্য। অনেকের কাছে আবার এইসবের কারণে অফিস এক রকম বন্দিখানা।

আপনি সারাদিন অফিসে বসে কাজ করতে গেলেও অনেক বাঁধার সম্মুখীন হতে হয়। ভেবে চিন্তে কাজ করতে হলেও অনেক ঠান্ডা আর নিরিবিলি জায়গার দরকার আছে তাইনা? কিন্তু এখন ইন্টারনেট এর সময় এসে গেছে যেখানে অফিসে যাওয়ার দরকারই হয়না। এটাই সত্যি।

বাহিরের দেশগুলতে রিমোট ওয়ার্ক শুরু হয়ে গেছে অনেক আগে থেকেই। সেই আমাদের বাংলাদেশ অনেক পিছিয়ে আছে বলা যায়। তাই আমাদেরও দরকার রিমোট ওয়ার্ক এ আসা। কারন এতে আপনার অনেক লাভ আছে। লাভ কি জানতে ইচ্ছে হয়না? খুব সহজ! আপনাকে সারাদিন অফিসে বসে কাজ করতে হবেনা! আপনি যেকোনো জায়গায় বসে কাজ শেষ করতে পারবেন।

আরও মজার ব্যাপার হল ঘুম থেকে উঠে নাস্তা করতে করতে আরামে কাজ শেষ করতে পারবেন। আপনি কি পড়ে আছেন কি করছেন এগুলো নিয়ে কোনও মাথা ব্যথা থাকল না। মিটিং করার সময় শুধু একটা শার্ট পড়ে নিবেন , নিচে লুঙ্গি নাকি কি পরা তা নিয়ে কোনো মাথা ব্যথা থাকলো না। কারন মিটিং এ শুধু আপনার উপরের শরীর দেখা যাবে। কোনো প্যাড়া নেই।

না না, এইগুলা লাভ হলেও লোভে পড়বেন না। ঘরে থাকলেও কাজের পরিবেশ না তৈরি করতে পারলে বিপদে পড়বেন। এগুলো জাস্ট একটু লোভ দেখালাম আরকি!

আসল লাভগুলো এখন আলোচনা করবো।

জার্নি করতে করতে দিন শেষ

ধরুন, আপনি প্রতিদিনই অফিসে যাচ্ছেন। বাসে করে, সাইকেল করে, যেভাবেই হোক। পনেরো বিশ ত্রিশ মিনিট নষ্ট করে আপনি অফিসে যাচ্ছেন। আবার জ্যাম লাগলে কথাই নেই। ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকা । হিসাব করলে দেখা যায় দেড় দুই ঘন্টা এমনি লস করছেন, মাসে কত ঘণ্টা লস হলো?

এখন চিন্তা করে দেখেন ঘণ্টার পর ঘণ্টা যে লস করছেন এগুলো আপনার হাতে থাকলে আপনি কি করতে পারতেন। রাস্তার জার্নি কি আপনার জন্য ভালো? না, এটা কারো জন্যই ভালো না।

এমন হওয়াটা কি দরকার ছিলো? এই টেকনোলোজির যুগে?

টেকনোলোজিই সব নষ্টের মূল

রিমোট ওয়ার্ক যদি এতই ভালো হয় তাহলে বড় বড় কোম্পানি গুলোতে কেন এটা করা হয়নাই এত বছর? কারন , তারা চাইলেও পারেনি। আগে এত সুন্দর সুযোগ ছিলনা। ইন্টারনেট এর যুগ আসার পর, করোনার লকডাউন এগুলোর কারনে রিমোট ওয়ার্ক খুব ভালো করেই সম্ভব হয়ে গেছে।

আগেরকার দিনগুলো এমন ছিল যে, সবাই ভাবতো ইন্টারনেট মানে সময় নষ্ট, জেনারেশন নষ্ট। তাদের এমন চিন্তা ছিল সারাদিনের কাজগুলো সকাল নয়টা থেকে পাচঁটায় হয়। কিন্তু এখনকার জেনারেশন বুঝতে পারছে টেকনোলোজি এমন কিছু যা রাতকে দিন দিনকে রাত করে দিতে পারে। যেমন ঢাকায় বসে আমেরিকার সাথে সময় কিভাবে ম্যানেজ করবো এটা পুরাই আমার বিষয় হয়ে যাবে।

নয়টা থেকে পাচঁটা আর না, আর না

সারাদিন কাজ করতে কারোই ভালো লাগেনা। কিন্তু রিমোট ওয়ার্ক এর সুবিধা হল আপনি এতে করে একদম সকালে যারা কাজ করে তাদের সাথেও কাজ ধরতে পারবেন, আবার গভীর রাতে যারা কাজ করে তাদেরও ধরতে পারবেন, একই সাথে যাদের দিনের বেলায় স্কুল কলেজ যেতে হয় তাদেরও ধরতে পারবেন। নিজের মত করে নিজেকে টাইম দিতে পারবেন।

মোটামুটি নিজের সময়কে নিজে গুছিয়ে নিতে পারবেন। (আপনার জন্য) আপনার দিনকে রাত আবার রাতকে দিন বানাতে পারবেন। আপনার সময়টাই অন্য রকম যাবে। সকাল সকাল অফিসে যাওয়ার তাড়া থাকবে না, কারণ জ্যাম নিয়ে চিন্তা নেই। বাংলাদেশে জ্যাম নিয়ে চিন্তা কার থাকেনা?

রিমোট ওয়ার্ক হলে কি আর অফিস থাকবে না?

অফিস থাকবেনা কেন? থাকবে। কিন্তু তখন অফিস হবে আরো অনেক গুরুত্বপূর্ণ জায়গা। অফিস হবে সাপ্তাহিক মিটাপের জায়গা, চা কফি খাওয়ার জায়গা। মানসিক প্রশান্তির জায়গা।

কিন্তু সবসময় সবাইকে একসাথে বসে কাজ করতে হবেনা। এক এলাকায় থাকতে হবেনা। যেখানে ইচ্ছে বসে কাজ করতে পারবে, শুধু দিন শেষে কাজ কমপ্লিট হলেই হল। অফিসে বসে কাজ করতে হবে এমন কোনো কথাই না। আপনার টিমের কিছু লোককে আপনি রিমোট ওয়ার্ক এর জন্য বাসায় থেকে কাজ করতে দিন। অফিসে না থাকলে যে কাজ করতে পারবেন না এমন কোনো কথা নেই। এতে আপনার অফিসের খরচও কমে গেল, বেতনও বেড়ে গেল, কাজও করা হল। ইনকাম আরও বাড়লে সবাই আরো মানসিক শান্তিও পাবে।

কিছু পেতে হলে কিছু দিতে হয়

ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিকেরা ত রিমোট বললেই নারাজ। তারা বলে রিমোটে কাজ হয়না। তাদের উদ্দ্যেশ্যে দুইটা কথা আলোচনার সময় তুলে ধরতে পারেন। তাদের বলুন, রিমোট ওয়ার্কের খারাপ দিক যে নাই তা না। আগে প্রতিদিন টিম এর লোকদের নিজের চোখে দেখতে পেতেন। আপনার মনে হতে পারে, তারা কি সত্যি কাজ করছে, নাকি ফাঁকি দিচ্ছে? মনে এই ভূত চাঁপলেও আসলে কিন্তু তাদেরও মাথায় কাজের জন্য একটা চাঁপ থাকে। রিমোট ওয়ার্কে বরং কাজের চাপ আরো বাড়ে।

তাদের নিজেদের মত করে কাজ করতে দিন । এই ভাবে আপনার একটু সুযোগ সুবিধা দিতেই হবে। মাঝে মধ্যে তাদের ট্রিট দিন, বোনাস দিন। দেখবেন আপনার কাজ অনেক সহজে শেষ হয়ে যাবে, আর আপনার অফিস ভাড়া ও বেঁচে যাবে। আগের মত বিশাল অফিস লাগবেনা কারন অনেকেই বাসায় থেকে কাজ করতে চাইবে। তাদের মত লোকদের দিয়ে কাজ করালে খুব ভাল ভাবে আপনার কাজ শেষ হবে, যেহেতু তাদের কাজ করার জন্য আগ্রহ বেশী থাকবে। তাই তাদের সুযোগ সুবিধাও দিতে হবে। কারন কিছু পেতে হলে কিছু দিতে হয়। কারন পরে আপনার লাভ হবে।

কমিউনিকেশন ঠিক করতেই হবে

রিমোট ওয়ার্কের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো কমিউনিকেশন। কিভাবে টিমের সবার সাথে মিলে কাজ করবে, এটা যদি না বোঝা যায়, তাহলে রিমোট সিস্টেমটার কোন এডভেন্টেজ নিতেই পারবেন না। কমিউনিকেশন মানে যে সবসময় কল করবেন, মিটিং করবেন, স্ল্যাকে মেসেজ দিয়ে বিরক্ত করবেন, এটা না।

শিখুন কিভাবে টিমের সাথে কাজ করতে হয়

একটু ভাবুন, সারাদিন আপনার টিমের লোকরা অফিসে বসে কাজ করছে আর করছে কিন্তু তাদের ভেতর কোনো আগ্রহ নেই, তারা সবাই বোরিং ফিল করছে। অনেকে কাজে মন বসাতে পারছেনা। তাদের মাথায় চিন্তা হল কখন অফিস টাইম শেষ হবে কখন বাসায় যাবে। কোনো ক্রিয়েটিভিটি কাজ করছেনা। দিন শেষে কর্মকর্তারও লস, কর্মচারীরও লস।

কিন্তু রিমোট ওয়ার্ক এর দিক দিয়ে ভাবলে দেখবেন, প্রতিদিন ৯ টা থেকে ৫ টা পর্যন্ত অফিসে বসে কাজ করতে হবেনা, কিন্তু রিমোট ওয়ার্ক এর মাধ্যমে আপনি টিমের মাঝে কাজ ভাগ করে নিয়ে অনেক সময় বাচাঁতে পারেন।

এখানে কাজ আঁগাতে চাইলে, আপনি কাজ গুলোকে আপনার টিমের সাথে ভাগ করে নিতেই হবে। কাজ দ্রুত সময়মত শেষ করার কারণে যে সময়টা বাঁচবে, সেই সময়ে আপনার পছন্দের কাজটি করতে পারেন।

কাজের আপডেট দেয়ার ব্যাপারে ক্লিয়ার থাকবেন

মনে করেন, প্রতিদিন অফিসে রিপোর্ট জমা দিতে যেতে হয়, মিটিং এর জন্য এক রুম থেকে অন্য রুমে দৌড়াতে হয়। তার জন্য আবার বাস এ করে জ্যাম এর ভেতর ঝুলে ঝুলে, রেগুলার অফিসে যেতেও হয়। একটু দেরী হলে হয়তো মিটিং মিস হয়ে যেতে পারে।

হ্যা, একটা কথা চিন্তায় রাখতে হবে। রিমোট জব সব জায়গায় খাটে না। সব রকম কাজ জমা দিতে সবাইকে অফিসে যাওয়ার দরকার হয় না, কিন্তু এখন ধরেন কোথাও আগুন লাগলো, তার জন্য কি ভিডিও কল বা নেট এর মাধ্যমে ফায়ার সার্ভিস এর লোকরা পানি দেবে? এগুলো এমন কাজ না যেগুলো টেকনোলজি নিয়ে কাজ সেইগুলো রিমোট ওয়ার্ক এর মাধ্যমে সম্ভব, হয়তো বাইরের দেশে এটা সম্ভব হতেও পারে, বাংলাদেশতো মাত্র এই সেকশনে প্রবেশ করছে।

এখন জুম, স্কাইপ, গুগল মিট, সহ এমন অনেক রকম টুলস রয়েছে যার মাধ্যমে স্ক্রিন শেয়ার থেকে শুরু করে, প্রেজেনটেশন আর মিটিং করা যায়। আর সার্ভারে ঢুকে কোনো ওয়েবসাইট আপগ্রেট করার জন্য, দূরে থেকে কোনো ছবি ইডিট করার জন্য ফিগমা, ফটোশপের মতো আরো অনেক টুলস রয়েছে যার মাধ্যমে সবাইকে এক জায়গায় থাকার প্রয়োজন হয় না।

আপনার কাজ হবে সঠিক টুলটা সঠিক সময়ে ব্যবহার করে ডেইলি রিপোর্ট করে ফেলবেন। অতিরিক্ত মিটিং করলে কিন্তু আবার জুম ফ্যাটিগে ধরবে, মানে জুমকে শত্রু ভাবা শুরু হবে।

সময়ের কাজ সময়ে জমা দিবেন

ভাবুন, আপনার সিলেট থেকে ঢাকায় এসে অফিসের কাজ করতে হচ্ছে আপনার প্রিয় ফ্যামিলিকে রেখে। কত কষ্ট করে মেসে খাচ্ছেন। সারাদিন গাধার মত খেঁটে নিজের জন্য তো সময় নেইই, মাস শেষে টাকা হলে ফ্যামিলিকে পাঠাচ্ছেন। ঈদ হলে জ্যাম ঠেলে গ্রামে যাচ্ছেন আর আবার অফিস খোলার আগে হাজির না হলে বেতন কাটা। কিন্তু রিমোট ওয়ার্ক এর দিকে তাকান। আপনাকে প্রতিদিন অফিসে যেতে হবেনা, যেকোনো জায়গায় থেকে আপনি কাজ করে দিতে পারছেন। শুধু প্রয়োজন একটা স্ট্যাবল ইন্টারনেট।

এখন এই সুবিধা যেহেতু পাচ্ছেন, তাই আপনার উচিৎ হবে সময়ের কাজ সময়ে করে বরং কিছু কাজ আরো বাড়তি করে রেখে দেয়া, যেন পরে জমা দিতে পারেন আর বিন্দাস ঘুরতে পারেন।

ধরুন, আপনি বাংলাদেশে বসে লন্ডনের কোনো কোম্পানির সাথে কাজ করছেন। লন্ডন আর বাংলাদেশের সময়ের ব্যবধান ৫ ঘন্টা। দেখা গেল সকাল সকাল কাজ দ্রুত শেষ করে ফেললেন, বা কোথাও আটকে গেলেন। দেখা গেল একটা স্টেপ শেষ করে পরে কি করবেন তার জন্যে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। ফলে আপনার ৫টা ঘন্টাই লস। এই ৫ ঘন্টায় আপনি অনেক কাজ করতে পারতেন। আপনি আর আপনার টিম ডিসকর্ড, স্ল্যাক টাইপের টুলস দিয়ে কমিউনিকেট করতেন, ট্রেলো, নোশন দিয়ে টাস্ক ম্যানেজ করতেন, আবার প্রয়োজনমাফিক টিমের ইন্টারনাল ডকুমেন্টেশন টুলস ব্যবহার করলে আপনার কাজগুলো সময় নষ্ট না করেই, স্টেপ বাই স্টেপ করতে পারেন।

রিমোট ওয়ার্ক মানেই হল অফিসের সবাইকে একসাথে অফিসে বসে কাজ করতে হবেনা। যদি সঠিক সময়ে সঠিক কাজটা জমা না দিতে পারেন, তাহলে এই মহা সুবিধার কোন কিছুই ভোগ করতে পারবেন না।

কাজের ফাঁকে মজা করা

আপনি সারাদিন কাজ করতে থাকলেন, আর করতে থাকলেন। করতে করতে বিরক্ত। আর কত কাজ করবেন? একটা সময় কাজ বাদ দিয়ে মন চাইবে কম্পিউটার ছাঁদ থেকে ফেলে দিতে।

একটানা কাজ করতে কারই ভালো লাগেনা। মনযোগ বেশিক্ষণ রাখা যায়না। তাই কাজের ফাঁকে যখনই বিরক্তি লাগবে, চট করে টিমে একটা গ্রুপ মেসেজ দিন। চ্যাট রুম আর গ্রুপ মেসেজ তার মধ্যে বেস্ট। এতে করে আপনারো কাজের ফাঁকে মজা হলো, কাজ করাও হলো।

জিজ্ঞাসা করুন, এই আজকে কে কি দিয়ে ভাত খাচ্ছেন?

কাজে আটকে গেলে কি করবেন?

আপনি অনেক কাজ করলেন, কিন্তু আপনার কাজ কিভাবে করছেন এগুলো নিয়ে কাউকে রিপোর্ট দিলেন না, বা হঠাৎ কোনো দিক দিয়ে আটকে গেলেন। তখন কি করবেন?

এমন সমস্যায় পড়লে দ্রুত একটা ছোট মিটিং করে ফেলুন যদি পারেন। সবাই মিলে গ্রুপ করে সব সমস্যা বললে অনেকটাই সমাধান হয়ে যায়। অফিস হলে কিন্তু আপনি চাইলেই আপনার কলিগকে একটা ছোট ডাক দিয়ে কিছু জিজ্ঞাসা করতে পারতেন। এখন সেটা করলে দোষ হয়ে যাবে?

কোনো কোম্পানির উন্নতি আর গতি বাড়ানোর আসল রহস্য হল প্রতি সপ্তাহের শুরু ও শেষে টিমের সবাই গ্রুপে এসে একটা ছোট মিটিং করা। কে কি করছে, কোন দিকে আগালে প্রজেক্ট সহজে করা যাবে, কার কি সমস্যা হচ্ছে, ইত্যাদি জিনিসগুলো জানানো। তাহলে সময়ও বাঁচবে, উন্নতি কতটুকু হয়েছে জানা যাবে। নাহলে প্রজেক্ট কোথায় কিভাবে কতটুকু এগুলো ট্র্যাক করতে বেশ হিমশিম খেতে হবে।

শুধু বাসায় বসেই কাজ না

আপনি সারাদিন বাসায় কাজ না করে বাহিরে ল্যাপটপ নিয়ে পার্ক বা যেকোনো কফি শপ এ কাজ করতে গেলেন, নতুন নতুন দৃশ্য দেখতে পেলেন। কফির মিষ্টি ঘ্রাণে হয়তো আপনার মনটাও ভালো থাকলো। আবার আপনি চাইলে কোথাও দূরে ঘুরতে যেয়েও কাজ করতে পারবেন যদি আপনার কাছে ইন্টারনেট থাকে। এমন সুযোগ আর কোথায় পাওয়া যায়? আপনার মন যেখানে চায় সেখানে আপনি আপনার অফিস বানাতে পারবেন।

রিমোট ওয়ার্ক মানে এই না যে শুধু বাসায় বসেই আপনার কাজ করতে হবে। আপনি সময় পেলে পার্ক বা রাস্তার পাশে বসে কাজ করতে পারবেন। এই কাজটা করতে আপনার প্রথমে ম্যানেজ করতে কষ্ট হবে কিন্তু সময়ের সাথে আপনি অনেক আরাম পাবেন। শুধু বিছানায় শুয়ে কাজ করবেন না প্লিজ, ওইটা বাজে অভ্যাস হয়ে যাবে। একটানা কয়েক মাস চেষ্টা করে দেখুন আপনার ইমপ্রুভমেন্ট আপনি দেখতে পাবেন।

হুটহাট মিটিং বর্জন করবেন

উপরে মিটিংয়ের কথা শুনে দেখা গেল আপনি প্রতিদিনই সবসময় মিটিং করছেন যে কোনো সহজ বিষয় নিয়েও। এতে হিতে বিপরীত হবে। একটা সময় দেখা যাবে, আপনার কোনো গুরুত্বপূর্ন মিটিং হলেও কারো কাছে আর গুরুত্বপূর্ণ মনে হবেনা। প্রতিদিন যদি যেকোনো বিষয় নিয়ে অনুষ্ঠান হয় তাহলে তার কোনো গুরুত্ব থাকেনা। আর সবসময় মিটিং হলে, কি বিষয়ে মিটিং হচ্ছে তাই হয়তো কারো মাথায় থাকেনা।

সব কোম্পানিগুলোতে মিটিং দরকার। কিন্তু মিটিং এমন হওয়া যাবেনা যাতে মনে হয় মিটিং খুবই সাধারণ একটা জিনিস। ম্যানেজারতো সব কোম্পানিতেই থাকে আবার তারাই যে কোনো কাজের জন্য মিটিং বসায়। ফলে ম্যানেজারের সব কাজেই মিটিং জিনিসটা থাকে, কিন্তু অনেক সময় এই মিটিং করতে করতে, তারা যেই কাজের জন্য মিটিং করে, সেই কাজটা আর করাই হয়না।

তার জন্য ভেবে চিন্তে মিটিং করা ভালো। মিটিং করার আগেই সব গুছিয়ে ফেলবেন। সংক্ষেপে মিটিং শেষ করে দিবেন।

সবার কথা কানে নিবেন না

আমাদের দেশে এই কদিন আগেও সবাই চাকরি ছাড়া কিছুই বুঝতো না। ব্যবসা করলেও মোটামুটি সবাই একটু মেনে নিতো। কিন্তু যখন বাচ্চারা কম্পিউটার বা টেকনোলোজি নিয়ে কিছু করতে যেত, তখনই তাদের অনেক কথা শুনতে হতো। যেমন, দেখেছো ছেলেটা বা মেয়েটা সারাদিন কম্পিউটারের সামনে বসে থাকে, নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

রিমোট ওয়ার্ক করলে একটা বড় সমস্যা হল, বাসার সবার মনে হবে আপনি সারাদিনই বাসায় বসে আছেন বলে আপনার কোনো কাজ নেই ,কিন্তু যদি আপনি অফিসে থাকতেন এটা তারা ভাবতো না। কারণ আপনাকে তারা দেখতেই পাচ্ছে না।

লোকে অনেক কিছুই বলবে, ছেলেটা সারাদিন কম্পিউটারের সামনে বসে থাকে, কোনো কাজ নেই। এগুলো শুনে কোনো লাভ নেই। আপনার কাজতো আর অন্যরা করে দেবেনা, বেতন ও দেবেনা। মাঝখান দিয়ে কথা শোনানোর সময় অনেককেই পাবেন।

এজন্য কাজের পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। কাজের ফাঁকে সবাইকে একটু সময় দিন, আপনি যে ব্যস্ত ছিলেন, তাদের কাছে একটু সময় কাটাতে এসেছেন, সেটা জানান দিন। কাজের ফাঁকে সবার সাথে কিছু সময় কাটালে আপনারো ভালো লাগবে।

সময় মতো কাজ করবেন

যখন আপনি প্রতিদিন ৯ টা থেকে ৬ টা পর্যন্ত অফিসে বসে কাজ করবেন না, তখন আপনার টাইম টেবিল পুরই চেন্জ হয়ে যাবে। তখন সকালে উঠেই অফিসের কথা হয়তো মাথায়ই আর আসবেনা। এটা খারাপ অভ্যাস হয়ে যাবার আগেই অভ্যাস ঠিক করে নিন।

সকালে উঠে আপনি কয়েকটা ইমেইল চেক করলেন। তার ফাঁকে টুকটাক নাস্তাও হয়ে গেল। আপনার কাজের ফাঁকে দুপুরের খাবারও হয়ে গেল। আর ওদিকে কাজ তো চলছেই।

সারাদিন একটু একটু কাজ শেষ করে দিন শেষে চিন্তা করবেন যে সারাদিনে আপনি ভালোভাবে কাজ করতে পেরেছেন কিনা। যদি দেখেন আপনার কাজ শেষ বা অনেক করা হয়ে গেছে তাহলে পরদিন থেকে আবার শুরু করেন। টানা পাগলের মত কাজ করার কোন মানে নেই।

নিজের শালীনতা বজায় রাখুন

প্রতিদিন অফিসে যেতে হলে আপনার সুন্দর কাপড় পড়ে যেতে হয়, একটা নির্দিষ্ট সময়ে যেতে হয়। এক টাইমে নাস্তা করতে হয়। বাসে করে টাইম টু টাইম অফিসে যেতে হয়।

কিন্তু আপনি যখন অফিসের কাজ বাসায় করবেন তখন আপনার জামা কাপড় কি পরে আছেন এটা চিন্তা করতে হবেনা। মিটিংয়ের সময় একটা শার্ট পরে নিলেই হয়। আর আপনি চাইলে যে কোনো জায়গায় বসে কাজ করতে পারবেন। আপনার রুম, বারান্দা, ছাদ, রান্নাঘরেও। আপনাকে বাঁধা দেবার মত কেউ থাকবেনা শুধু ঠান্ডা মাথায় কাজ করতে পারলেই হলো।

এমতাবস্থায়, সবচেয়ে ভালো হলো কাজের সময় লুঙ্গি না পড়ে কাজ করুন। একটু শালীনতা বজায় রাখুন। নিজেকে কাজের একটা ইফেক্ট দিন। আবার ছাঁদে বসে কাজ করে যে শালীনতা থাকবে, বাথরুমে বসে কাজ করলে সেই শালীনতা থাকবে না। তাই বাথরুমে কাজ করবেন না প্লিজ।

এক জায়গায় বসে থেকে আলসেমি করা বাদ দিন

আপনার প্রোজেক্টের কাজ কম বলে আপনি ভাবলেন আচ্ছা আরেকটু পরে কাজ করি। একটু বলে বলে সারাদিন শেষ হয়ে গেলো, কিন্তু আপনি আলসেমি করে আর কাজ করলেননা। এতে আপনার কাজ জমতে জমতে অনেক হয়ে যাবে। পরে কাজ করার সময়ও চলে যাবে। যখন সব কাজ একসাথে মাথার উপর চাপ দিবে তখন আপনার মাথায় কাজ করবেনা। কাজ শেষ করার ওয়ে বের করুন।

যদি আপনি ঘরে থেকে আলসেমি করে কাজ কমপ্লিট না করেন তাহলে বুঝতে হবে আপনার কোম্পানির উন্নতি করতে পারবেননা। একটা সময় কোম্পানী লাথি মেরে আপনাকে তাড়িয়ে দিলে আপনার ভালো লাগবে?

আলসেমি দূর করতে একটা সহজ উপায় আছে। প্রতিদিন কম্পিউটার টেবিলের সামনে খাবার না খেয়ে আপনি সবার সাথে এক সাথে খাবার খেলেন। সকাল আর বিকাল বাহিরে একটু হেটে আসলেন। ইচ্ছা হলে একটু ব্যায়াম করলেন। কিংবা সাইকেল চালিয়ে এলেন। এতে আপনার কাজ করতে আরো ভালো লাগবে, ব্যায়াম হবে, আলসেমিও লাগবেনা।

কিছু পেতে হলে কিছু ছাড় দিতে শিখুন

এমন হতেই পারে আপনাকে বাদ দিয়ে, আপনার টিমের অনেক লোকদের বাসায় থেকে কাজ করার সুযোগ দিয়েছে, তখন আপনার মনে হবে সবাইকে বাসা থেকে কাজ করতে দিল কিন্তু আমাকে দিলো না। এতে হয়তো আপনার কাজ করতে ইচ্ছে হবেনা। আর যদি সবাইকে দেওয়া হয় তাহলে কেউ আর কমপ্লেন করতে পারবেনা যে আমাকে তো বাসা থেকে কাজ করার সুযোগ দেননি। তাই কিছু পেতে হলে ছাড় তো দেওয়া লাগবেই। অফিসের বসকে এটা একটু আলতো করে বুঝিয়ে বলুন।

আপনি রিমোট ওয়ার্ক এর লাভ করতে পারবেননা যদি আপনার টিমের সবাইকে রেখে শুধু দুই তিন জনকে অফিসের বাহিরে কাজ দেন। টিমের সবাইকে এক সুযোগ দেন, দরকার হলে, সপ্তাহে একবার কাজের আপডেট নেন।

আবার রিমোট ওয়ার্ক কোম্পানী না মেনে নিলে কয়টা দিন আপনিও ছাড় দিন। কোম্পানীকে বোঝানোর আগ পর্যন্ত একটু ছাড় ত দিতেই হবে। কোম্পানী দিন শেষে নিজেরটা চিন্তা করবেই।

ক্লায়েন্টদের সাথে নিয়ে কাজ করা

এই কথাগুলো আপনার বস, ক্লায়েন্ট, বা অফিসের কর্মকর্তা, টিমমেটদের সাথে কাজ করার জন্য প্রযোজ্য। উনাদের সাথে কাজ ভালো ভাবে করতে হলে কয়েকটা জিনিস আপনার জানতে আর জানাতে হবে- ক্লায়েন্টদের জানাতে হবে আপনি আর আপনার ক্লায়েন্ট এক জায়গায় পাশাপাশি থাকেন না। আপনি কি কি কাজ পারেন, কিসের উপর কাজ করতে পারেন এগুলো আগেই বলে রাখবেন। আপনার কাজের উপর কনফিডেন্স থাকতে হবে। কাজের স্টেপ ভাগ করে নেন, কাজের আপডেট জানান৷ তাদের পছন্দ হচ্ছে কিনা এগুলো জানুন। তাহলে বার বার কাজ শেষ করে চেন্জ করতে হবেনা। ক্লায়েন্টরা যেন আপনাকে সবসময় পায় সেই জিনিসটা আপনার মাথায় থাকতে হবে। সবার শেষে প্রজেক্টের সাথে ক্লায়েন্ট কে জয়েন করে রাখবেন যেন তারা এটা মনে না করে আপনি আপনার মন মত প্রজেক্টের কাজ করছেন।

রিমোট ওয়ার্ক করা কি বৈধ?

বাহিরের দেশের ক্লায়েন্টের সাথে কাজ করতে গেলে সবার আগে প্রশ্ন আসে রিমোট ওয়ার্ক কি বৈধ? রিমোট ওয়ার্ক করার আগে জানতে হবে আপনি কিসের উপর কাজ করতে যাচ্ছেন। ভালো প্রজেক্টের সাথে কাজ করলে আপনার কোনো টেনশন থাকবেনা। বাবা মা, আত্মীয় স্বজনকে এই কথা কে বোঝাবে যে আপনি আসলে খারাপ কিছু করছেন না?

এমনিতে রিমোট ওয়ার্ক বৈধ। তবে আসলেই আপনার কাজ বৈধ আর হালাল কিনা চেক করে নেয়া জরুরী। আপনি আপনার টিম নিয়ে বাহিরের কোনো ক্লায়েন্টের সাথে কাজ করছেন, হয়তো সেটা মদ, গাঁজা নিয়ে। তাহলে সেটা তার দৃষ্টিতে ভালো হলেও আপনার জন্য ভালো কাজ না। এক্ষেত্রে এটা অবৈধ।

কিন্তু টাকা এক দেশ থেকে অন্য দেশে লেনদেন করতে হলে হয়তো ট্যাক্স দিতে হবে। বাহির থেকে টাকা আসতে হলে ট্যাক্স আপনার চির সাথী, একথা মাথায় রাখতে হবে। বাংলাদেশে যদিও এখনো ট্যাক্সের ধাক্কা আসেনি। আসতে কতদিন?

আপনি তাদেরই একজন

রিমোট ওয়ার্ক করতে হলে আপনি এটা ভাবলে হবেনা যে আপনি টিমমেটদের থেকে আলাদা কেউ একজন। আপনি যদি ভাবেন আমি স্বাধীন, আমি যা চাই তাই করতে পারব, তাহলে তা ঠিক হবে না।

কারন তারা যদি কাজ না করে তাহলে আপনি একা এতো কাজ করে শেষ করতে পারবেন না। তাদেরকে আপনার নিজের লোক ভাবতে হবে আর কাজে এগিয়ে যেতে হলে সবাইকে একটু ছাড় দিতেই হবে। তাদের সাথে সময় কাটান তাদের পরিস্থিতি বুঝুন। সবাইকে কাজ একসাথে না চাপিয়ে দিয়ে, যে যেই কাজে দক্ষ তাকে সেই কাজ দিন। কখনো হেল্প লাগলে যে এই কাজে বেশি হেল্প করতে পারবে, বা যার হাতে সময় আছে তাকে নক দিন।

মাঝে মাঝে দেখা করুন, কফি খান, গল্প করুন। সুখ দুঃখের সাথী হবার চেষ্টা করুন।

রিমোট কাজ পাওয়ার উপায়

অনেকের মনেই প্রশ্ন তৈরি হয় রিমোট কাজ পাবার বিশ্বস্ত সাইট কোনটি। এর সরাসরি কোন উত্তর নেই, কারণ আপনি ফ্রিল্যান্সার, পার্ট টাইমার, ফুল টাইমার, কন্ট্রাক্ট বেসিস সহ সব রকম উপায়েই রিমোট জব করতে পারেন।

রিমোট কাজ করার একটা অন্যতম উপায় হলো ফ্রিল্যান্স মার্কেটপ্লেসগুলো। আপওয়ার্ক, ফাইভার, ফ্রিল্যান্সার, এ তিনটি আমাদের দেশে বেশ জনপ্রিয়। এগুলো যদিও কাজ শুরু করার জন্য যথেষ্ট, বাস্তব ফুল টাইম কাজের জন্য এগুলো কখনোই ভালো না। যার অন্যতম কারণ তারা আপনার ইনকামের মোটামুটি ১৫-২০% ফি কেটে নিবে।

এইসব সাইটে অনেক রকম টাইম ট্র্যাকিং টুলস থাকে, আপনি কি করছেন না করছেন, সব কিছু সবসময় মনিটরিং এর মধ্যে থাকতে হয়। আর একদম শুরুর দিকে তাদের কাজের এপ্লিকেশন সিস্টেম যথেষ্ট কঠিন। একদম শুরুর দিকে এইসব মার্কেটপ্লেস দেখা যেতে পারে, তবে মার্কেটপ্লেস নির্ভর না হওয়াই উত্তম।

আর কিছু কিছু সাইট আছে যেগুলোতে ঢুকতে গেলে আপনাকে প্রচুর পরিমাণে টেস্ট দিয়ে, পাশ করে এরপর আসল কাজ করার ক্ষমতা অর্জন করতে হবে।

রিমোট জব খোঁজার কিছু ওয়েবসাইট

প্রিমিয়াম জব সার্চ করার সাইটগুলোঃ

  • FlexJobs: এটা এমন একটা সাইট যেখানে রিমোট জব, পার্টটাইম, ফুলটাইম, সব রকম জব পাবেন। কিছু কিছু পজিশনের জন্য আপনাকে (প্রি-স্ক্রিনিং) পরীক্ষা দিতে হবে। কোন কোন সেকশনের জবের জন্য পকেট থেকে কিছু টাকা খরচ করা লাগতে পারে। কিন্তু জব মার্কেটপ্লেস হিসাবে এটার বেশ সুনাম আছে।
  • Arc: এখানে যত জব আছে সব রিমোট জব। এটা মূলত ডেভেলপারদের জন্য তৈরি করা। জুনিয়র আর ইন্টার্নশীপ লেভেলের অনেক জব এখানে পাওয়া যায়।
  • Remote.co: তাদের সাইটের জবগুলো মোটামুটি বাছাই করা জবগুলো পোস্ট করে, একেকটা জব পোস্ট করতে ২৯৯ ডলার পর্যন্ত নেয়। ডিজাইন, ডেভেলপমেন্ট, একাউন্টিং, লেখালেখি সহ অনেকগুলো সেকশনের কাজ এখানে পাওয়া যায়।
  • JustRemote: এই সাইটে জব পোস্ট করতে মোটামুটি মাসে ১৮৯ ডলার করে খরচ করা লাগে। তাই যেন তেন জব এখানে পোস্ট করা হয় না। তাদের এখানে একটা পাওয়ার সার্চ ফিচার আছে যার জন্য ৬ ডলার খরচ করা লাগে, কিন্তু সেখানে প্রচুর পরিমাণে হিডেন কাজের লিস্ট থাকে যা বাইরে পাবলিশ করা হয় না।
  • WeWorkRemotely: এই সাইটেও যারা জব পোস্ট করে, মোটামুটি ২৯৯ ডলার খরচ করেই পোস্ট করে। বিশ্বের বড় বড় কিছু কোম্পানীর রিমোট জব এই সাইটে পাওয়া যায়।
  • RemoteOk: এই সাইট আরো ভয়ানক। এখানে জব পোস্ট করতে গেলে কিছু কিছু ক্ষেত্রে তা কয়েক হাজার ডলারের উপরে চলে যায়। তাই এই সাইটে পোস্ট করা জবগুলো আরো বেশি ইউনিক হয়ে থাকে। এখানের জবগুলো আবার এপিআই দিয়ে ১২৮ টা জব বোর্ডে চলে যায়। এখানে পোস্ট করা কিছু জবের বেতন মাসে ৫-১০ হাজার ডলারও হয়ে থাকে।
  • WorkingNomads: এখানে একেকটা জব পোস্ট করতে এক দেড়শো ডলার করে নেয়। এখানে সাবস্ক্রাইব করে রাখলে ডেইলি ডেইলি নতুন নতুন জবের ইনফরমেশন সোজা মেইলে চলে যায়।

ট্যালেন্ট মার্কেটপ্লেসগুলোঃ

  • TopTal: একটা অন্যতম ট্যালেন্ট মার্কেটপ্লেস। এখানে ঢুকতে হলে আপনাকে কয়েক ধাপে পরীক্ষা দিতে হয়, যে কেউ চাইলেই ঢুকতে পারে না। এখানের কাজের পেমেন্ট যথেষ্ট ভালো। কিছু কিছু ক্ষেত্রে আমাদের দেশের ডেভেলপারদের ৩০-৬০ ডলার করে ঘন্টাপ্রতি দেয়া হয়, যা মাসিক ৪-৫ হাজার ডলারেও পৌছাতে পারে।
  • FlexPie: টপটালের মতই একটা ট্যালেন্ট মার্কেটপ্লেস। এখানে ঢুকতেও আপনাকে পরীক্ষা দিয়ে ঢুকতে হবে। কাজের পেমেন্ট আর কাজ পাওয়ার পরিমাণ টপটালের তুলনায় কম হলেও যথেষ্ট ভালো। জুনিয়র, সিনিয়র, সবার জন্যই এই প্লাটফর্ম যথেষ্ট উপযোগী।
  • Unicorn: এরা আগে ল্যাটিন আমেরিকানদের জন্য CloudDev নামে একটা প্লাটফর্ম তৈরি করে ব্যবসায় অনেক লাভবান হয়ে এরপর গ্লোবাল মার্কেটে হাত দেবার জন্য ইউনিকর্ন ডেভ নামে এই প্লাটফর্মটি তৈরি করে। এখানের পেমেন্ট টপটালের তুলনায় মোটামুটি অনেক কম।
  • X-Team: এটা টপটালের সাথে টেক্কা দেয়ার জন্য এখানকার ডেভেলপারদের আরো বেশি সুবিধা দেয়। গেম, টিকেট, বই, কোর্স, রেস্টুরেন্ট, হেডফোন, মিটআপ, সহ হাবিজাবি অনেক কিছু মিলিয়ে বছরে ২৫০০ ডলারের হাতখরচ দেয়। এদের গ্লাসডোর রিভিউ খুবই ভালো (৪.৮/৫)।
  • CrossOver: এরা বড় বড় কোম্পানীর জন্য এলিট মানের ডেভেলপার খুঁজে দেয়। কিছু কিছু পজিশনে মাসে ১৫-২০ হাজার ডলারেরও (বাংলায় ১০-২০ লাখ টাকা প্রতি মাসে) সুবিধা পাওয়া যেতে পারে। এদের গ্লাসডোর রিভিউ (৩.৩/৫), আর কমেন্টগুলো পড়লে বোঝা যায় এখানে কাজের চাপ একটু বেশি থাকে। আপনি যদি ফুলটাইম কাজের জন্য বেতন নিতে চান, তাহলে কখনো কখনো ফুলটাইমের বেশিও কাজ করা লাগতে পারে। বেতন বেশি থাকলেও কাজের চাপও বেশি।

দ্রুত রিমোট কাজ করার কিছু বুলেট পয়েন্ট

যাদের কাজের রিভিউ ভালো তারাই উপরে উঠে

আপনার রিভিউ ভালো না হলে লোক আপনাকে কেন হায়ার করবে? আপনাকে যেই টাকা দেয়া হবে, সেই টাকা দিয়ে যদি আরও ভালো লোক পাওয়া যায়? তাই নিজের স্কিল সবসময় গ্রো করুন। রিভিউ ভালো রাখার চেষ্টা করুন। ভালো করে কাজ করুন। কারন যে কাজ ভালো জানে আর যার রিভিউ ভালো, তার জন্য কাজের অভাব হয়না।

ক্লায়েন্টরাও টাকা দিয়ে কাজ ভালো করতে পারবে এমন লোকই ত হায়ার করবে। আপনার টিমে কেউ একজন কাজই করেনা, খালি আমার মত আলসেমী করে আর ঘুমায়, তাহলে কোম্পানীর কি দরকার তাকে মাসে মাসে টাকা দেওয়ার?

যাদের দরকার তাদের ধরে রাখতে চেষ্টা করুন

ধরেন আপনি অনেক কাজ পারেন বলে আপনার ডিমান্ডও বেশি। আজকাল স্কিল্ড কাউকে খুঁজে পাওয়াই যায়না। আর যারা কাজ পারেই না তাদের রেখে শুধু শুধু লাভ কি? যদি না আপনার ইচ্ছা হয় আপনি নিজে শিখিয়ে তাকে আপনার টিমে ঢুকাবেন।

ক্লায়েন্টের কাজ ভালো ভাবে করতে পারবে, টিমমেটের সাথে কাজের ইচ্ছা অনেক, কোম্পানির কথা ভাববে, এমন লোক খুঁজে পাওয়া কিন্তু অনেক কঠিন। কোম্পানীকে সবসময় বলবেন এমন কাউকে যেন তারা না ছেড়ে দেয়। বলবেন এমন কেউ চলে যেতে চাইলে যেন ধরে রাখার চেষ্টা করে।

যারা কোম্পানিতে লং টাইম কাজ করে তাদের কাজের দক্ষতা অনেক বেশি থাকে। কে কিভাবে কাজ করে, কোনটা কিভাবে হলে ভালো হবে এগুলো তারা জানে। এমন লোককে টিম থেকে বাদ দেওয়া যাবেনা। নতুন লোক কখনোই পুরাতন লোকের মতো কাজ করতে পারবেনা।

এমন কেউ চলে গেলে, এমনই একটা লোক খুজে পেতে পেতে অনেক কষ্ট হবে। আপনিও হয়তো এমন একজন টিমমেট হারিয়ে কাজের গতি হারিয়ে ফেলতে পারেন।

টিমমেটের সমস্যা কে নিজেদের সমস্যা মনে করবেন

আপনার ফ্যামিলিতে অনেক সমস্যা বা কেউ অসুস্থ আপনার মন মানসিকতা ভালো থাকবে না। কাজে মন বসবে না। কিন্তু এই সমস্যা গুলো যদি টিমের সদস্যারা বুঝতো, আপনার কত উপকার হতো? আপনার নিজেরই ইচ্ছা হবে ওই কোম্পানির জন্য আরও বেশি কাজ করতে।

আবার মানুষের মধ্যে ভালো মানুষ খুজে পাওয়া কঠিন। এটাকে টক্সিক কর্পোরেট অফিসের মতো চিন্তা করলে হবেনা। টিমে সবাইকে খুশি আর সুস্থ রাখা সবচেয়ে কঠিন কাজ।

আগে বলা হতো আপনার এতো সমস্যা কেন, আপনি বাদ, যান ভাগেন। রিমোট লাইফে এটা খাটালে হবেনা। এক এক জন এক এক রকম তাই তাদের সাথে চলতেও হবে তেমন। কারো ব্যবহার অতো ভালো না, কারো ফ্যামিলিতে সমস্যা, কেউ অসুস্থ হয়ে গেছে কিন্তু তাদের কাজের অনেক টান আর অনেক ভালো কাজ করে আপনি কি তাদের বের করে দেবেন? না। তাদের সমস্যা কে নিজেদের সমস্যা মনে করে একটু ছাড় দেন তারাও আপনার জন্য অনেক করবে।

ডেভলপারের সময়ের দাম দিবেন

কোম্পানী যদি ভাবে যে ডেভলপারদের দিয়ে কম খরচে কাজ করাচ্ছে। তাহলে এক সময় তারা ধরে ফেলবে। তারা চিন্তা করবে, এই কম টাকায় আমি কেন এত কষ্ট করছি? আমি আরও পাওয়ার যোগ্য! যাইগা!

সে আরও ভালো জায়গা খুজবে যেখানে তার কাজের মূল্য আরো বেশি হবে। ঠিক এই সুযোগে অন্য কোম্পানি তাকে হায়ার করে নিবে। এতে কার লাভ হলো? কোম্পানী একজন দক্ষ ডেভলপারকে হারালো।

কোম্পানিগুলোর একটা চিন্তা থাকে কিভাবে কম টাকা খরচ করে কোম্পানির উন্নতি করা যায়। কিন্তু এটা রিমোট ওয়ার্ক এর সময় করলে হবেনা। কম টাকা দিয়ে বেশি কাজ করাবেন? ডেভেলপারদের আরো টাকা দিয়ে অন্য কোম্পানি হায়ার করে নিতে সময় লাগবেনা। কারন তাদের সময়ের দাম অনেক।

আপনার টিমমেটদের সময়ের মূল্য দিন। উনারা কে কত পাচ্ছে সেটা আপনি জানেন না, কিন্তু উনাদের সময়েরও মূল্য আছে। মাথার উপর প্রেশার আছে। ডেডলাইনের ভয় আছে। কোম্পানী ছাড়ার টেনশন আছে। এইসব ব্যাপারে কোম্পানীর সাথে নেগোশিয়েশন করুন।

সুন্দর করে গুছিয়ে লেখা শিখুন

ধরেন, আপনি মার্কেট এ গেলেন। হঠাৎ করে আপনি দেখলেন একটা দোকানে অনেক সুন্দর করে জিনিসগুলো সাজানো। আপনার দেখেই মনে হবে উফ জিনিসগুলো অনেক সুন্দর। সুন্দর জিনিস আগে রেখে দিলে, জিনিসগুলো দেখে তার প্রতি আগ্রহ তৈরি হলে ওইদিকে যাবেন। কিন্তু জিনিসগুলো দেখতে সুন্দর গুছানো না হলে আপনি আগাবেন না। আর এইসবের জন্য জন্য দোকানের কর্মচারী বাহবা পাবে, কারন সে দোকানটাকে সুন্দর করে সাজাতে পেরেছে।

আপনি যদি যে কোনো কাজকে গুছিয়ে লেখতে পারেন তাহলে এটা আপনার জন্য বিশাল একটা পয়েন্ট। আপনি সহজেই ক্লায়েন্ট এর আগ্রহ বাড়াতে পারবেন। টিমমেটদের বাহবা পাবেন। কাজ দ্রুত শেষ হবে। কারণ গোছানো লেখার উপর কার দক্ষতা কেমন তা বুঝা যায়। আর গোছানো ডিটেইলস হল কাজের অর্ধেক। আপনার যদি সুন্দর করে গুছিয়ে লিখার দক্ষতা থাকে হঠাৎ কোনো প্রজেক্ট আসলে আপনি তাদেরকেও বুঝাতে পারবেন, আর তারাও বুঝবে আপনারা প্রফেশনাল টিম।

টেস্ট প্রজেক্ট দেবার জন্য প্রস্তুত থাকুন

একটা কোম্পানী কিছু লোক হায়ার করতে যাচ্ছে। তো কোম্পানী কি তাদের কাজের উপর দক্ষতা না যাচাই করে তাদের হায়ার করে ফেলবে? দিন শেষে সে যদি কোম্পানির কাজ ঠিক করে না শেষ করতে পারে তাহলে কি হবে? সিম্পল কথা কোম্পানীর লস হবে। সময় এ লস, কাজে লস, ঠিক করে কাজ না জমা দিতে পেরে ক্লায়েন্টরা আপনাদের সাথে কাজের কথা আর বলবেন না।

তাই, যে কোনো কোম্পানি ভালো কোনো টেস্ট ছাড়া কাউকে হায়ার করেনা। আর এইসবের জন্য আপনি সদা সর্বদা প্রস্তুত থাকতে হবে। এক দুই তিন সপ্তাহ লাগলেও সুন্দর করে টেস্ট প্রজেক্ট করে দিয়ে তাদের বিমোহিত করে দিবেন।

ইন্টারভিউর প্রস্তুতি নিয়ে রাখবেন

কোম্পানী কোনো অভিজ্ঞ লোক হায়ার করতে গেল, কিন্তু তাকে রিয়েল লাইফে দেখে নি। তাহলে তারা কিভাবে বুঝবে এই লোকটা ভালো কিনা? বিশ্বাসযোগ্য কিনা? জবে ঢোকার আগেই আপনার সব রকম ডিটেইলস রেডি রাখবেন যেন জানতে চাইলেই উত্তর দিতে পারেন। সময়ে সময়ে সিভি আর গিটহাব আপডেট করে রাখবেন।

কোম্পানীকে বলুন ট্রেইনিংয়ের ব্যবস্থা করে দিতে

শেখার একটা বেস্ট জায়গা হলো ভালো কোম্পানী। চেষ্টা করুন তাদের সাথে কন্ট্রাক করে ফেলার জন্য। এটা বলে দিন যে তারা আপনাকে শিখিয়ে দিবে বিনিময়ে আপনি তাদের কাজ করে দিবেন।

রিমোট ওয়ার্কারদের জন্য বেস্ট ট্রেইনিং সেন্টার হল কন্ট্রাকের মাধ্যমে কাজ করা। কারন তাতে একটা নির্ধারিত সময়ের মধ্য কাজ করতে হবে, আর তাতে কাজের তাড়া থাকবে। কাজ সময় মত করবে, আর মেইন কথা কাজের উন্নতি আপনি নিজেই দেখতে পারবেন। তাই কন্ট্রাকের মাধ্যমে ট্রেনিং নেওয়া রিমোট ওয়ার্কারদের জন্য বেস্ট।

রিমোট ওয়ার্কারদের জীবন

রুটিন মেনে চলা

মনে করেন আপনি প্রতিদিন বাসায় বসে কাজ করেন আপনার প্রতিদিন বোরিং লাগবে। এক এক দিন কাজ করতে ইচ্ছে হবেনা। কিন্তু নিজের বাসায় নিজের স্বাধীনতা কাজ করে। বোরিং লাগলে কাজের আগ্রহ কমে যায়। তাই আপনি যদি একটু টাইম মেনে একটু সুন্দর গেটাপ নিয়ে কাজ করতে বসেন আপনার কাজ করতে অন্য রকম ফিল হবে।‌ কাজ আগানোর জন্য এমন একটা রুটিন দরকার জাতে আপনার বেশির ভাগ কাজ শেষ হয়ে যায়। চাইলে কাজের সময় একটু অফিসিয়াল ভাব আনবে এমন ড্রেস পরুন। সারাদিনে এমন একটা টাইম বের করুন সেই টাইম এ শুধু কাজ করবেন। অল্প কাজ করে রেখে দেবেন না যে পরে করবেন।

চাইলে ঘরে বা অফিসে বসে কাজ করুন

সবাইকে যে রিমোট ওয়ার্ক করতে হবে এমনটা কথা না, কিছু লোক অফিস এ কাজ করুক কিছু লোক বাসায়, যার যেখানে ভালো লাগে। আপনি এক কাজ করতে পারেন হাফ ডে বাসায় কাজ করলেন বাকি কাজ অফিসে করলেন। এক দিন কে ভাগ করে নিলেন। এতে আপনার কোনো সমস্যা হবেনা কিন্তু আপনি নিজে নিজের মত সময় বের করে অফিসের কাজগুলো ঠিক করে শেষ করতে পারলেন। দুপুরের খাবারটা নিজের বাসায় খেলেন। এতে মেইন সুবিধা হলো আপনার কাজ আপনি সময়ের আগেই শেষ করতে পারবেন। এখন কথায় বসে কাজ করলে আপনার মনে হবে আপনি তাড়াতাড়ি শেষ করতে পারবেন আরো ভালো করে এটা পুরাই আপনার ব্যাপার।

একটু ক্রিয়েটিভিটিতে কাজ করুন

প্রতিদিন কিছু নিউ ওয়েতে কাজ করলে সেই কাজে অনেক আনন্দ পাওয়া যায়। যেমন সব সময় ল্যাপটপ ডেক্সটপ এ কাজ না করে ট্যাব দিয়ে ট্রাই করুন, কিন্তু এই বলে এই না যে সবসময় সোফা বা বিছানায় বসে কাজ করবেন এতে কাজের গতি কমে যায়।

গোলমাল উপভোগ করুন

রিমোট ওয়ার্কার হিসেবে কাজ করতে গেলে দেখা যায় সবাই এক এক জায়গায় কাজ করে কিন্তু এতে একটা বিরক্তি এসে পড়ে। আপনি এক কাজ করতে পারেন ল্যাপটপ নিন কাছের কফি শপ যেখানে ওয়াইফাই আছে আপনার কাজ করুন , দেখবেন অনেক ভালো লাগবে।

অফিসের গোলমাল থেকে বাঁচতে বাসার গোলমাল আর কফির দোকানের গোলমালে গিয়ে পড়বেন ব্যাপারটা এমন না। পজিটিভ ভাবে চিন্তা করলে ওইখানে আপনার টিম মেটও থাকবেনা, একটু পর পর ডাক দিবে না। আপনি উপভোগ ও করতে পারলেন। শুধু কফি শপ না, পার্ক বা মাঠ, বিভিন্ন জায়গায় আপনি ল্যাপটপ নিয়ে কাজ করতে পারেন।

মনের মত স্বাধীনতা উপভোগ করুন

আপনার যদি এই চিন্তা থাকে যখন আমি রিটায়ার্ড হব, তার পর আমি বিভিন্ন দেশে ঘুরতে যাবো, তাহলে এটা একটা বিশাল ভুল হবে। আপনি কাজে থাকতেই বিদেশে ঘুরে আসবেন, আপনার দরকার হবে একটা ল্যাপটপ আর নেট কানেকশন। নৌকায় চড়তে চড়তেও কাজ করার মত অবস্থা তৈরি করতে পারেন।

পরিবারকে সময় দিন

অফিসে যাওয়ার দিন গুলো দেখুন, সকালে ঘুম থেকে উঠে অফিসে যাওয়া ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা একটানা অফিসে থাকা, এরপর রাস্তায় থাকা। ফলে সারাদিনে আপনার ফ্যামিলিকে অনেক কম সময় দেওয়া হয়।

কিন্তু যখন রিমোট ওয়ার্ক এ যখন বাসা থেকে কাজ করবেন তখন আপনি অনেক সময় আপনার ফ্যামিলিকে দিতে পারবেন। চিন্তা করেন যে প্রতিদিন আপনি আপনার ফ্যামিলির সাথে নাস্তা করছেন কোনো চিন্তা ছাড়া, কোথাও ঘুরতে গেলেন, আপনার বাচ্চা অসুস্থ, কিন্তু আপনি বাসায় থেকে কাজ করতে পারছেন। জাস্ট ভাবেন পুরো দিনটা অফিস এর তুলনায় কত খানি পার্থক্য। আপনার কোনো টেনশন থাকলো না।

বাড়িতে কাজ করতে পারছেন না ?

মনে করুন আপনি বাসায় কাজ করতে পারছেন না যেকোনো কারনেই হতে পারে, পারিবারিক কারন, বাসায় অনেক সাউন্ড বা অন্য যেকোনো কিছু তাহলে কি করবেন?

যদি আপনি অফিসের বাহিরে অফিস খুজতে চান তাহলে আপনার জন্য বেস্ট জায়গা হলো কফি হাউজ। কফি হাউসে অনেক অনেক লোক ফুল টাইম অফিসের কাজ করে থাকে।

আর যদি পার্মানেন্ট কিছু চান তাহলে বাসার কাছে অন্য অফিসের রুম ভাড়া নিতে পারেন, এটাকে কো-স্পেস বলে। অনেক কোম্পানী আস্তে আস্তে এই ট্রেন্ডে চলে আসছে। কাজের জন্য আলাদা একটা পরিবেশ। আবার ইন্দোনেশিয়ায় ত ডিজিটাল নোম্যাড ভিসা ঘোষণা করলো কয়েকদিন আগে।

সারমর্ম

রিমোট ওয়ার্ক নিয়ে আরো অনেক লেখা যায়, বিশেষ করে যারা টিম ম্যানেজ করে তাদের জন্য আরেকটা বিশাল বই লেখা সম্ভব। কিভাবে রিমোট জব পাওয়া যাবে, কিভাবে প্রিপেরেশন নিতে হবে, কিভাবে রিমোট টিম ম্যানেজ করতে হবে, এইসব প্রতিটা টপিকই বেশ বড় বড় টপিক।

রিমোট ওয়ার্ক অন্য দেশ গুলোয় অলরেডি শুরু হয়ে গেছে। আপনি পিছিয়ে থাকবেন নাকি সামনে যাবেন এটা পুরোই আপনার বিষয়। তবে সময় চলে যাবে যতো সময় যাবে তত কম্পিটিটর বেড়ে যাবে। বসে থাকলে আপনারা পিছিয়ে যাচ্ছেন।

আসুন রিমোট শুরু করে দিই।

 
Share this